ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে টানা চার দিনের ছুটিতে ঈদ আনন্দের মতো বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন লাখো মানুষ। ভোট দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ ছুটিতে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটাতে অনেকেই নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় যাচ্ছেন।
খুলনার উপকূলীয় জনপদ কয়রার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ বছরের এই সময়ে এলাকার বাইরে শ্রম বিক্রি করতে যান। কেউ ধান কাটতে, কেউ ইটের ভাটায়, আবার অনেকেই শহরে দিনমজুরির কাজ করেন। কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ উপজেলায় এ ধরনের প্রায় ৩০ হাজার শ্রমজীবী মানুষ রয়েছেন। কয়েকদিন ধরে এসব শ্রমজীবী মানুষ দলে দলে এলাকায় ফিরতে শুরু করেছে। ধানকাটা শ্রমিকরা কাজ শেষ করে ফিরলেও ইটের ভাটা ও পোশাক কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের কয়েকদিনের ছুটি নিয়ে ফিরতে হয়েছে। কেবল ভোট উপলক্ষেই এসব শ্রমজীবী এলাকায় ফিরেছেন।
খুলনা মহানগরীর রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইক চালিয়ে রোজগার করেন কয়রা উপজেলার পাঁচ শতাধিক মানুষ। ইতোমধ্যে এসব শ্রমজীবী নিজ এলাকায় ফিরতে শুরু করেছেন। বাড়ি ফেরা রিকশা শ্রমিক নুরুল হক সাংবাদিকদের জানান, ‘আগের দুই-তিনটা ভোটে আমাগের পছন্দ-অপছন্দের দাম ছিল না। এক প্রকার জোর কইরে আমাগে কাঁধে এমপি (সংসদ সদস্য) চাপায় দেয়া হতো। তবে এবার সত্যিকারের ভোটে জিতেই এমপি হতি হবে। আমাগের ভোটে একজন যোগ্য মানুষকে নির্বাচিত করতি পারব আমরা।’
ভ্যানচালক মিজানুর শেখ জানান, ‘এবার ভোটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। নিজের ভোট না দিতি পারলি যদি পছন্দের প্রার্থী হাইরে যায়। তাই কষ্ট কইরে হলিও বাড়ি ফিরতি হয়েছে।’
আশুলিয়ার গার্মেন্টস থেকে গত শুক্রবার রাতে নিজ এলাকায় ফিরেছেন কয়েকজন শ্রমিক। ভোট দেওয়ার কথা বলে এক সপ্তাহের ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন তারা। টাকা খরচ করে এভাবে বাড়ি ফেরায় তাদের কিছুটা ক্ষতি হলেও দীর্ঘদিনের ভোট না দেওয়ার আক্ষেপ মেটাতেই এলাকায় ফিরেছেন এসব শ্রমজীবি মানুষ।
নির্বাচন উপলক্ষে ছুটির প্রথম দিনের শেষ বেলায় কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বেড়েছে ব্যাপকভাবে। যারা টিকিট পাননি তারা স্ট্যান্ডিং টিকিট নিয়ে ট্রেনের ভেতরে গাদাগাদি করে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন। ভয়কে উপেক্ষা করে ঝুঁকি নিয়েই কেউ-কেউ ট্রেনের ছাদে চড়েই ঘরমুখো হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া রাজশাহীগামী রাজশাহী এক্সপ্রেস ট্রেনে যাত্রীদের গাদাগাদি ভিড় লক্ষ্য করা যায়। কর্তৃপক্ষ বার বার নিষেধ করলেও অতিরিক্ত যাত্রীরা শেষ পর্যন্ত ছাদে চড়েই করে স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হতে। স্টেশনের ৭ নম্বর প্ল্যাটফর্মে রাজশাহী এক্সপ্রেসের জন্য বিপুলসংখ্যক যাত্রী অপেক্ষা করছেন। যেসব যাত্রী টিকিট পায়নি তারাও ট্রেনের ভিতর দাঁড়িয়ে পড়েছেন কিংবা ছাদে চড়ে বসেছেন। তবে ছাদে যাওয়া যাত্রীদের মধ্যে বেশিরভাগই নিম্ন আয়ের মানুষ। এ সময় ট্রেনের ছাদে অবস্থানকারীদের মধ্যে অনেককেই নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থী ও সংগঠনের শ্লোগান দিতে শোনা যায়।
মন্তব্য করুন