ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ
সংবাদ এখন ডেস্ক
আপডেট :০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১:৪৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ১৭ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১৯৫

জুলাই অভ্যুত্থানের পর গত ১৭ মাসে দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। রাজনৈতিক সহিংসতা, মব পিটুনি, সাংবাদিক নির্যাতন, সীমান্তে হত্যা এবং হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে বলে সংস্থাটির বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ১৫টি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন ও নিজস্ব অনুসন্ধানের ভিত্তিতে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত রাজনৈতিক ও দলীয় সহিংসতার ১ হাজার ৪১১টি ঘটনায় ১৯৫ জন নিহত এবং ১১ হাজার ২২৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী রয়েছেন, পাশাপাশি পরিচয় অজ্ঞাতও রয়েছেন ১৯ জন।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী মানবাধিকার পরিস্থিতি ও প্রাক্-নির্বাচনি সহিংসতা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকার উন্নয়নে কিছু উদ্যোগ নিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল ছিল। মব ভায়োলেন্স নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় নাগরিক নিরাপত্তা, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্নে জনমনে হতাশা ও উদ্বেগ বেড়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৭ মাসে মব ভায়োলেন্স ও গণপিটুনির ৪১৩টি ঘটনায় ২৫৯ জন নিহত ও ৩১৩ জন আহত হন। সাংবাদিকদের ওপর ৪২৭টি হামলায় ৬ জন নিহতসহ ৮৩৪ জন নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হন। এ সময়ে ৪৯টি মামলায় ২২২ জন সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা আইন ও সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের আওতায় ৪১টি মামলায় ৬৯ জন অভিযুক্ত ও ৩৩ জন গ্রেপ্তার হন। অধিকাংশ মামলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্টকে কেন্দ্র করে হওয়ায় আইনের অপব্যবহারের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এইচআরএসএস।

সার্বিক বিষয়ে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য রাষ্ট্র ও সমাজের সকল স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, সাংবাদিক, মানবাধিকার সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি করা জরুরি, যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দৃঢ় হয় এবং মানুষের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মব সহিংসতা, হেফাজতে মৃত্যু, রাজনৈতিক উত্তেজনা, নির্বাচনি সহিংসতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের বিষয় সমাধান না করা হলে মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।

এসময় সরকারের প্রতি মানবাধিকার রক্ষায় আরও জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সকল নাগরিক, গণমাধ্যমকর্মী, নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতি এইচআরএসএসের পক্ষ থেকে অধিক সোচ্চার ও সক্রিয় ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান তিনি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সুষ্ঠু ভোট হলে যেকোনো ফলাফলই বিএনপি মেনে নেবে : মাহদী আমিন

ভোটের মাঠে নামছেন ১০৫১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১৫শ রোহিঙ্গা আটক, অভিযান চলছে

দুর্নীতি দমনের কথা বলে ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন কেন?

জিয়াউলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে ট্রাইব্যুনালে সাবেক সেনাপ্রধান

চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু

আজ থেকে ভোটের মাঠে নামছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

অস্ট্রেলিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত, সব আরোহী নিহত

২০২৬ সালের হজের ভিসা দেওয়া শুরু

ঢাকার ৬ স্থানে তারেক রহমানের জনসভা আজ

১০

থাইল্যান্ডে চলছে ভোটগ্রহণ, হচ্ছে সংবিধান বদলের প্রশ্নে গণভোটও

১১

রাজনীতি আমাদের পেশা নয়, এটা কর্তব্য হিসেবে নিয়েছি

১২

ভারতের সংসদে বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনা, যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

১৩

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্যে সরকার গঠন করবে না বিএনপি

১৪

কমার একদিন পরই বাড়ল সোনার দাম

১৫

খুলনার মুসলিম লীগ বিএনপি’র প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছে

১৬

নগরীতে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা

১৭

মাগুরায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি গ্রেপ্তার

১৮

খুলনায় চাঁদার দাবিতে দোকানে তালা পরদিন ক্যাশ বাক্স লুট, বাড়িতে গুলি

১৯

প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে দফায় দফায় সংঘর্ষ : ১৪৪ ধারা জা‌রি

২০