ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ
সংবাদ এখন ডেস্ক
আপডেট :৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ২:৪৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে অধ্যাদেশের নীতিগত অনুমোদন

কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে একটি অধ্যাদেশের খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে শারীরিক, মৌখিক, অমৌখিক (ইঙ্গিতপূর্ণ) এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণকে যৌন হয়রানি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এসব অপরাধে তিরস্কার, পদাবনতি, চাকরিচ্যুতি বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার পর্যন্ত শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ খসড়ার অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। পরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ এবং সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি।

খসড়ায় যৌন হয়রানির সংজ্ঞা বিস্তৃত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল, মেসেজিং প্ল্যাটফর্মসহ তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত হয়রানিকেও এর আওতায় আনা হয়েছে। জেন্ডারভিত্তিক সব ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপমানজনক আচরণ এতে অন্তর্ভুক্ত।

প্রতিটি কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই কমিটি অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত পরিচালনা, তদন্তকালীন সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং শাস্তির সুপারিশ করতে পারবে। অভিযোগ গঠনের ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার বিধান রাখা হয়েছে।

অধ্যাদেশে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ‘সার্ভাইভারকেন্দ্রিক পদ্ধতি’ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের কারণে প্রতিশোধমূলক আচরণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মিথ্যা অভিযোগের ক্ষেত্রেও সুবিচার নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট বিধান রাখা হয়েছে, যাতে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা নিরুৎসাহিত না হন।

যেসব ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি গঠন সম্ভব নয়, সেখানে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে স্থানীয় অভিযোগ কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য জাতীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশনা রয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের আর্থিক সহায়তা, পুনর্বাসন, কাউন্সেলিং, আইনি সহায়তা ও সচেতনতা কার্যক্রমের জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

একই বৈঠকে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশের খসড়াও নীতিগত অনুমোদন পায়। এতে শারীরিক, মানসিক, যৌন ও আর্থিক নির্যাতনকে পারিবারিক সহিংসতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

এ ছাড়া কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের খসড়া অধ্যাদেশ, ২৩ মার্চকে বিএনসিসি দিবস হিসেবে পালন, গায়ানায় বাংলাদেশের মিশন স্থাপনসহ মোট ১১টি বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভোটের মাঠে নামছেন ১০৫১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১৫শ রোহিঙ্গা আটক, অভিযান চলছে

দুর্নীতি দমনের কথা বলে ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন কেন?

জিয়াউলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে ট্রাইব্যুনালে সাবেক সেনাপ্রধান

চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু

আজ থেকে ভোটের মাঠে নামছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

অস্ট্রেলিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত, সব আরোহী নিহত

২০২৬ সালের হজের ভিসা দেওয়া শুরু

ঢাকার ৬ স্থানে তারেক রহমানের জনসভা আজ

থাইল্যান্ডে চলছে ভোটগ্রহণ, হচ্ছে সংবিধান বদলের প্রশ্নে গণভোটও

১০

রাজনীতি আমাদের পেশা নয়, এটা কর্তব্য হিসেবে নিয়েছি

১১

ভারতের সংসদে বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনা, যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

১২

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্যে সরকার গঠন করবে না বিএনপি

১৩

কমার একদিন পরই বাড়ল সোনার দাম

১৪

খুলনার মুসলিম লীগ বিএনপি’র প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছে

১৫

নগরীতে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা

১৬

মাগুরায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি গ্রেপ্তার

১৭

খুলনায় চাঁদার দাবিতে দোকানে তালা পরদিন ক্যাশ বাক্স লুট, বাড়িতে গুলি

১৮

প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে দফায় দফায় সংঘর্ষ : ১৪৪ ধারা জা‌রি

১৯

৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপির ঢাকার নির্বাচনি জনসভা বাতিল

২০