ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের সপ্তম রাষ্ট্রপতি, সাবেক সেনাপ্রধান ও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। আজ তার ৯০তম শুভ জন্মদিন। ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার বাগবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। রসায়নবিদ মনসুর রহমান ও জাহানারা খাতুন দম্পতির পাঁচ ছেলের মধ্যে জিয়াউর রহমান ছিলেন দ্বিতীয়। শৈশবে তার ডাক নাম ছিল কমল। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীরউত্তম খেতাবে ভূষিত করে। ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হন এবং ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠা করেন।
পিতার চাকরির কারণে কলকাতা হেয়ার স্কুলে লেখাপড়া করেন। ভারতবর্ষ ভাগের পর তার বাবা সপরিবারে পাকিস্তানের করাচিতে চলে গেলে তখন করাচি একাডেমি স্কুলে ভর্তি হন। করাচি একাডেমি থেকে তিনি ১৯৫২ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে ১৯৫৩ সালে করাচিতে ডিজে কলেজে ভর্তি হন। একই বছর তিনি কাকুল পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৫৩ সালে তিনি কাকুল মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৫৫ সালে তিনি সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে কমিশনপ্রাপ্ত হন।
১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে একটি কোম্পানির কমান্ডার হিসেবে খেমকারান সেক্টরে তিনি অসীম বীরত্বের পরিচয় দেন। এই যুদ্ধে বীরত্বের জন্য পাকিস্তান সরকার জিয়াউর রহমানকে হিলাল-ই-জুরাত খেতাবে ভূষিত করে। ১৯৬৯ সালে মেজর পদে উন্নীত হয়ে দেবপুরে সেকেন্ড ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন কমান্ড পদের দায়িত্ব¡ লাভ করেন। ১৯৭০ সালে একজন মেজর হিসেবে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং চট্টগ্রামে নবগঠিত অষ্টম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন কমান্ড পদের দায়িত্ব লাভ করেন। ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হলে প্রথমে তিনি ১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার নিযুক্ত হন এবং চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, রাঙ্গামাটি, মিরসরাই, রামগড়, ফেনী প্রভৃতি স্থানে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করেন। জুন হতে অক্টোবর পযন্ত যুগপৎ ১১ নম্বর সেক্টরের ও জেড- ফোর্সের কমান্ডার হিসেবে তিনি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতাযুদ্ধে বীরত্বের জন্য তাকে (বীর উত্তম) উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
স্বাধীনতার পর জিয়াউর রহমানকে কুমিল্লার সেনাবাহিনীর ৪৪তম ব্রিগেডের কমান্ডার নিয়োগ করা হয়, যে ব্রিগেডের সদস্যরা তারই অধীনে ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ করেন। ১৯৭২-এর জুন মাসে তিনি কর্নেল পদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উপ-সেনাপ্রধান পদে নিযুক্ত হন। ১৯৭৩ সালের মাঝামাঝি তিনি ব্রিগেডিয়ার পদে এবং ওই বছরের শেষের দিকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি জনতা বিপ্লবের পর জিয়াউর রহমান রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। সে বছরেই তিনি উলশি যদুনাথপুর থেকে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন উদ্বোধন করেন। ১৯৭৬ সালের ২৯ নভেম্বর মেজর জিয়া প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হন।
১৯ নভেম্বর ১৯৭৬ সালে তাকে পুনরায় সেনাবাহিনীর চিফ অব আর্মি স্টাফ পদে দায়িত্বে প্রত্যাবর্তন করা হয়। বিপদের সমূহ সম্ভবনা জেনেও জিয়া চট্টগ্রামের স্থানীয় সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে ঘঠিত কলহ থামানোর জন্য ১৯৮১ সালের ২৯ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে থাকেন। তার জীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায় ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধনতার ঘোষণা করেন। বাংলাদেশ ও বিশ^ সভ্যতা নামক নবম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে উল্লেখ করা হয় ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়।
মন্তব্য করুন