বিদ্যুৎচালিত গাড়ি নিবন্ধন পাচ্ছে

পরিবেশ দূষণ রোধে তেল ও গ্যাসের পরিবর্তে বিদ্যুৎচালিত গাড়িকে ভবিষ্যতের বাহন বলা হচ্ছে। অনেকে বলছে, আগামী দশকের পর জীবাশ্ম জ্বালানি তথা তেল-গ্যাসচালিত গাড়ি থাকবে না। কিন্তু বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে এখনো বৈধ নয় ব্যাটারির চার্জে চলা গাড়ি। সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নিবন্ধন দেয় না। এ অবস্থার অবসান হতে যাচ্ছে। পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎচালিত গাড়ি বৈধতা দিতে নীতিমালা করছে সরকার। আজ রবিবার বিআরটিএ সদর দপ্তরে এ সংক্রান্ত বৈঠক হওয়ার কথা।

ইউরোপ, আমেরিকার বাজারে নিত্যনতুন দ্রুতগতির বিদ্যুৎচালিত গাড়ি আসছে। সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অনুমতি পেলে বাংলাদেশেও এগুলোর বৈধভাবে চলার পথ খুলবে। এ ধরনের গাড়ির চলার পথে বড় বাধা পথে ব্যাটারি চার্জ করা। যুক্তরাজ্যে সড়কে তেলের পাম্পের মতো গাড়ি চার্জ করার স্টেশন গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশেও একই সুবিধা থাকবে। চার্জিং পয়েন্ট স্থাপনের অনুমতি দেবে সরকার। বিদ্যমান মোটরচালিত গাড়ির মতো যেসব বিদ্যুৎচালিত গাড়িতে একই রকম সুবিধা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে, শুধু সেইগুলো নিবন্ধন পাবে। এসব গাড়িরও ফিটনেস, রুট পারমিট, ট্যাক্স টোকেন লাগবে। অর্থাৎ, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তথা নছিমন-করিমন অনুমোদন পাবে না।

বর্তমানে দেশে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, নছিমন, করিমনসহ নানা ধরনের বাহন চলছে। সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ এসব বাহন। এসব বাহন চার্জের কারণে প্রতিদিন আড়াই শ’ থেকে তিন শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হয়। সামান্য দুর্ঘটনায় চালক, যাত্রীর প্রাণ যাচ্ছে। বিদ্যুৎচালিত গাড়ির মধ্যে কোনটি নিবন্ধন পাওয়ার যোগ্য তা ঠিক করবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)।

যেগুলোর সড়কে নির্ধারিত গতিতে, নিরাপদে চলার ব্যবস্থা থাকবে, শুধু সেগুলোই বুয়েটের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে নিবন্ধন পাবে। ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুৎচালিত অটোরিকশার আয়ুষ্কাল ৯ বছর, মোটরসাইকেলের ১০ বছর এবং হালকা, মধ্যম ও ভারী বাহনের আয়ুষ্কাল ২০ বছর ধরা হয়েছে।

সারাবিশ্বেই কার্বন ডাইঅক্সাইডের নিঃসরণ কমিয়ে বৈশি^ক উষ্ণায়ন রোধে বিদ্যুৎচালিত গাড়ি ব্যবহারে উৎসাহ বাড়ছে। বাংলাদেশেও এ ধরনের গাড়িকে নিবন্ধনের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। ২০১৮ সালের নভেম্বরে ‘ইলেকট্রিক মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন ও চলাচলসংক্রান্ত নীতিমালা’র খসড়া সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে পাঠিয়েছিল বিআরটিএ। পরের বছরের ৬ জানুয়ারি পর্যালোচনা সভা হয়। তখন বলা হয়, মোটরযান অধ্যাদেশের মাধ্যমেই নিবন্ধন দেওয়া সম্ভব। সেই নীতিমালাটি আবারও খতিয়ে দেখবে গঠিত এ-সংক্রান্ত নতুন কমিটি।

বিদ্যুৎচালিত গাড়ির নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির প্রধান বিআরটিএর পরিচালক (রোড সেফটি) শেখ মাহবুব-ই-রাব্বানী বলেন, আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে নতুন খসড়া নীতিমালা করা হচ্ছে। তবে আগের খসড়ার সঙ্গে হয়তো বেশি তফাৎ হবে না। স্টেকহোল্ডারদেরও অভিমত নেওয়া হবে।

এমন আরো সংবাদ

Check Also
Close
Back to top button