ভয় বাড়াচ্ছে করোনার নতুন তিন রূপ

প্রাণঘাতী নতুন করোনা ভাইরাসের জিনগত তিনটি নতুন রূপের সন্ধান মিলেছে সম্প্রতি যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নাইজেরিয়ায়। বৈশ্বিক মহামারী সৃষ্টিকারী রূপটির চেয়েও এরা ৭০ গুণ পর্যন্ত বেশি সংক্রমণ সক্ষম বলে বিশ্বব্যাপী নতুন করে ভয়ের সঞ্চার হয়েছে। আলজাজিরা একটি বিশেষ প্রতিবেদনে গতকাল এ তিনটি রূপভেদ নিয়ে আলোকপাত করা হয়।

ভাইরাস নিয়তই বদলাতে থাকে। এদের জিনগত রূপান্তর অস্বাভাবিক বা বিরল কিছু নয়। সময়ের ব্যবধানে একজন থেকে আরেকজনের শরীরে সংক্রমিত হওয়ার সময় ভাইরাসের এরূপ রূপান্তর ঘটে। সে কারণে বিজ্ঞানীদের কাছে সার্স-কভ-২ ভাইরাসের নব নব রূপভেদ আশ্চর্য হিসেবে আবির্ভূত হয় না।

নতুন রূপগুলো ঠিক কখন কোথায় ঘটবে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে এখন পর্যন্ত কোনোটিই মূল ভাইরাসের চেয়ে প্রাণঘাতী হয়নি। অথবা করোনার টিকা ও চিকিৎসাকে নতুন রূপগুলো অকার্যকর প্রমাণ করবে বলেও মনে হয় না।

যুক্তরাজ্যে শনাক্ত হওয়া নতুন একটি প্রকরণ হলো ভিইউআই-২০২০১২। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে এ রূপটি তদন্তাধীন বলে এমন কেতাবি নাম। ধারণা করা হচ্ছে, দেশটির রাজধানী লন্ডনে কিংবা কেন্ট কাউন্টিতে মধ্য সেপ্টেম্বরে প্রথম এ রূপটার সংক্রমণ শুরু হয়। ব্রিটেনের বহু অংশে বিধ্বংসী রূপ হিসেবে এটিকেই বিবেচনা করা হচ্ছে। মূল রূপটির চেয়ে এটি বেশি প্রাণঘাতী নয়, তবে বেশি সংক্রমণপ্রবণ। এ কারণে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বহু দেশ আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে।

ব্রিটিশ এ রূপটি এরই মধ্যে ইউরোপে ছড়িয়ে পড়েছে; ইতালি, ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ডসে তা ধরা পড়েছে। অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুরেও দ্রুত সংক্রমণমুখী এই রূপটি শনাক্ত হয়েছে।

এদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকায়ও কোভিড-১৯ রোগের নতুন একটি রূপ চিহ্নিত হয়েছে। এমনকি ব্রিটিশ রূপটির চেয়ে বেশি জিনগত রূপান্তর ঘটেছে ওই রূপটির। এরই মধ্যে কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এ করোনা। ৫০১.ভি২ নামের এ রূপটিও মূল করোনার চেয়ে বেশি সংক্রমণপ্রবণ বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

সর্বশেষ, করোনার নতুন একটি রূপ মিলেছে নাইজেরিয়ায়। এটি অন্যসব জিনগত রূপান্তর থেকে বেশ আলাদা। এর নাম রাখা হয়েছে পি৬৮১এইচ। অন্য দুটি রূপভেদের মতো এটি কিন্তু অত দ্রুত ছড়ায় না বলে এখন পর্যন্ত মনে করা হচ্ছে।

এমন আরো সংবাদ

Back to top button