সিনহা হত্যা : আসলে কী হয়েছিল সেই রাতে?

সেনাবাহিনীর মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদকে গুলি করার ঘটনা দেড় মিনিটের মধ্যেই ঘটে। এই সংক্ষিপ্ত সময়কার ঘটনা ঘটার আগে- আদ্যোপান্তে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে নানা চিন্তাভাবনা চলেছে। আসলে কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়, তাও ছিল বড় প্রশ্ন। জানা গেছে, কক্সবাজারের টেকনাফ থানার বরখাস্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশের পরিকল্পনা ও প্রত্যক্ষ মদদে সিনহা খুন হন।

টেকনাফে বৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভয়াশ্রম গড়ে তুলেছিলেন ওসি প্রদীপ। আজ রোববার কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ এ তথ্য জানান। মূলত প্রদীপের অন্ধকার দিক জেনে ফেলায় হত্যার শিকার হন সেনাবাহিনীর মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ।

গত ৩১ জুলাই রাতে খুনের শিকার হন সিনহা। এর আগে বিকেল চারটায় পাহাড়ি পথ ধরে নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘জাস্ট গো’ এর শ্যুটিং করতে সহকর্মী সিফাতকে নিয়ে মেরিন ড্রাইভের পাশের গাড়ি রেখে মাথাভাঙ্গা সাইক্লোন সেন্টারের পাশের রাস্তা ধরে এগিয়ে যান মইন্যা পাহাড়ের দিকে। রাত আটটার পরে সিফাতকে নিয়ে পাহাড় থেকে নেমে আসেন সিনহা। ঠিক তখনই মসজিদ থেকে ভেসে আসছিল এলাকায় ডাকাত পড়েছে।

এরপর নিজের গাড়ি নিয়ে নীলিমা রিসোর্টের দিকে ফিরছিলেন সিনহা। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ হয়েছে। ফুটেজে দেখা যায় রাত ৯টা ২২ মিনিট ৫০ সেকেন্ডে কর্তব্যরত এক বিজিবি সদস্যের ইশারায় চেকপোস্টের সামনে দাঁড়ায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহার রূপালী রঙের গাড়ি। কথোপকথনের ঠিক ছয় সেকেন্ডের মাথায় মেজর সিনহাকে স্যালুট জানান ওই বিজিবি সদস্য। গাড়িটি চলতে শুরু করার আগ পর্যন্ত তিনবার একইভাবে স্যালুট দিয়ে মেজর সিনহাকে সম্মান জানান ওই বিজিবি সদস্য। এবার গাড়িটি চেক পোস্ট অতিক্রম করার সময় সড়কের অপর প্রান্তে দায়িত্বরত অপর বিজিবি সদস্যও স্যালুট জানান সিনহার গাড়িটিকে উদ্দেশ্য করে।

এরপরই শামলাপুর এপিবিএনের চেকপোস্টের দিকে স্বাভাবিক গতিতে চলে যায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার ব্যক্তিগত গাড়িটি। এর এগারো কিলোমিটার দূরে এপিবিএনের শামলাপুর চেকপোস্টে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন সিনহা। একটু ভালো করে খেয়াল করলে চোখে পড়বে, মেজর সিনহার গাড়িটি চলে যাওয়ার ঠিক ৩২ মিনিট পর চেকপোস্ট অতিক্রম করে একটি মাইক্রোবাস। ঠিক এর পেছনেই ছিল পুলিশের একটি পিকআপ। এই গাড়ি দুটি অনেকটা ক্ষিপ্র গতিতে চেকপোস্ট অতিক্রম করলেও কোনো বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়নি। কারণ, তখন টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ ও তার দলবল দ্রুতগতিতে চেকপোস্ট অতিক্রম করে এগিয়ে যান শামলাপুর চেকপোস্টের দিকে। ততক্ষণে লাশ হয়ে যান সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা।

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, মধ্য জুলাইয়ে পরিকল্পনা করে নিজের ইউটিউব চ্যানেল চালুর অংশ হিসেবে টেকনাফ যান সিনহা। সঙ্গে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই সহকর্মী। টেকনাফের স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে সিনহার বন্ধুত্ব গড়ে উঠলে ওসি প্রদীপের নির্যাতন-নিপীড়নের কথা জানতে পারেন তিনি। ইয়াবা কেনাবেচায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়ে যান তিনি। পরে টেকনাফ থানায় যান প্রদীপের সাক্ষাৎকার নিতে। এ সময় তাদের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে সরাসরি হুমকি দেন প্রদীপ। কিন্তু সিনহা নিজের কাজ চালিয়ে চান। পরে প্রদীপ থানাতেই পরিদর্শক লিয়াকত ও তিন তথ্যদাতার সঙ্গে বৈঠক করেন। হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতেও প্রদীপই নির্দেশ দেন।

এমন আরো সংবাদ

Back to top button