কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ে কিছু পরামর্শ

পেট পরিষ্কার না হওয়া, পায়খানায় যথেষ্ট কষ্ট হওয়া, অনেক সময় ধরে বাথরুমে বসে থাকা কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ। যাঁরা এই রোগে ভুগছেন, তাঁদের জন্য কোষ্ঠকাঠিন্যের কিছু কারণ খুঁজে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী ও চিকিৎসক ডা. তাসনিম জারা

খাবারে যথেষ্ট পরিমাণ আঁশ না থাকা

পেটের ভেতরে থাকা নাড়িভুঁড়িতে মল বা পায়খানা তৈরি ও জমা থাকে। সেখানে ফাইবার বা আঁশ অনেকটা স্পঞ্জের মতো কাজ করে। শোষণক্ষমতার মাধ্যমে পায়খানায় পানি ধরে রাখার কাজটি করে এই আঁশ, যা থাকলে পায়খানা নরম ও ভারী হয়। ফলে নাড়ি দিয়ে সহজেই এগোয় এবং শরীর থেকে বের হয়। স্বাভাবিক মল ত্যাগ করাতে অনেকভাবে সাহায্য করে এই আঁশ। খাদ্যে যথেষ্ট পরিমাণ আঁশ না থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। অর্থাৎ এটা কোষ্ঠকাঠিন্যের একটা বড় কারণ।

পরামর্শ : কোষ্ঠকাঠিন্য রুখতে ফাইবার বা আঁশজাতীয় খাবার খেতে হবে। ডাল, ছোলা, গাজর, শসা, টমেটো, আপেল, কলা, চাল, লাল আটার মতো গোটাদানাসহ অনেক শাক-সবজি ও ফলমূলে যথেষ্ট মাত্রায় আঁশ থাকে। ভালো হয় এসব খাবার নিয়মিত খেতে পারলে।

 

যথেষ্ট পরিমাণ পানি পান না করা

মল বা পায়খানা নরম করতে শরীরে যথেষ্ট পরিমাণ পানির প্রয়োজন হয়। পায়খানা যাতে বৃহদন্ত্রে অর্থাৎ নাড়িভুঁড়িতে চলাচল করতে পারে, কোথাও আটকে না থাকে—সে জন্যও প্রয়োজন পানি। তাই যথেষ্ট পরিমাণ পানি পান না করলে পায়খানা শক্ত হওয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্যের আশঙ্কা বাড়তে পারে।

পরামর্শ : দিনে কমপক্ষে দুই লিটার পানি পান করুন। শরীর সেই পানি ব্যবহার করে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করবে। দৈনন্দিন চলাচলের সময় এক লিটারের পানির একটা বোতল রাখতে পারেন, তাহলে দিনে কতটুকু পানি খাচ্ছেন সেই হিসাব রাখা সহজ হবে।

 

দীর্ঘ সময় শুয়ে-বসে থাকা

হাঁটা-চলা না করা, অনেকক্ষণ শুয়ে-বসে থাকা, ব্যায়াম না করা ইত্যাদি অভ্যাসের ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। শরীরচর্চা করলে বৃহদন্ত্র অর্থাৎ ভেতরে থাকা নাড়িভুঁড়ি সচল হয় এবং স্বাভাবিক পায়খানা হতে সাহায্য করে।

পরামর্শ : প্রতিদিন কিছু সময় হাঁটাহাঁটি, দৌড়ানোর মতো কায়িক শ্রম বা ব্যায়াম করুন। একেবারে কিছু না করার চেয়ে অল্প কিছু ব্যায়াম করাও শরীরের জন্য ভালো। অবহেলা না করে আজ থেকেই শুরু করতে পারেন। প্রতিদিন ১০ বা ১৫ মিনিট দ্রুত হাঁটুন। এরপর আস্তে আস্তে সময়টা বাড়ান। একটানা অনেকক্ষণ শুয়ে-বসে থাকবেন না। উঠে হালকা ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি করে নিন।

 

পায়খানা চেপে রাখা

পায়খানার বেগ হলে অনেকে তা আটকে রাখার চেষ্টা করেন। এটা বেশ খারাপ অভ্যাস। ফলে দিন দিন শরীর সেটা থেকে পানি শুষে নেয়। ফলে পায়খানা ক্রমেই শক্ত হতে থাকে। তখন তা শরীর থেকে বের করা খুবই যন্ত্রণাদায়ক হয়। তখন হতে পারে কোষ্ঠ্যকাঠিন্য।

পরামর্শ : পায়খানার চাপ এলে বেশি দেরি করবেন না। দ্রুত বাথরুমে চলে যান। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য রোগ আছে তাদের জন্য প্যানে বসার দেহভঙ্গিটা সবচেয়ে ভালো। যদি সম্ভব হয় প্যান ব্যবহার করুন। বাসায় প্যান না থাকলে পায়ের নিচে টুল দিয়ে হাঁটু দুটি উঁচু করে বসতে পারেন।

 

মানসিক চাপ, উদ্ধিগ্নতা ও বিষণ্নতা

আপনি যদি অনেক বেশি চাপে থাকেন, উদ্ধিগ্নতা বা বিষণ্নতায় ভোগেন, তাহলে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে।

পরামর্শ : মানসিক প্রশান্তি আনে এমন কাজ করতে পারেন। হতে পারে আপনজনের সঙ্গে সময় কাটানো। তবে উদ্ধিগ্নতা বা বিষণ্নতায় ভুগে থাকলে চিকিৎসা নিন। এতে মানসিক উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্যও সেরে যাবে।

 

কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। যেমন—ট্রামাডল বা ওপিডজাতীয় ব্যথার ওষুধ, আইবুপ্রোফেন, ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট ইত্যাদি। পাঁচটার বেশি ওষুধ খেলেও কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার শঙ্কা বাড়ে।

পরামর্শ : নতুন ওষুধ নেওয়ার পর যদি মনে হয় কোষ্ঠকাঠিন্য বেড়ে গেছে, তাৎক্ষণিক আপনার ডাক্তারকে জানান। তিনি ওষুধ বদলে দিতে পারেন অথবা কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসার জন্য আলাদা ওষুধ দিতে পারেন। ওষুধ যদি এমন হয় যে সারাজীবন খেতে হবে, তাহলে আগের উপায়গুলো মেনে চলুন।

 

সাধারণত কোষ্ঠকাঠিন্য কোনো গুরুতর রোগের কারণে হয় না। তবে কিছু ক্ষেত্রে রোগের কারণেও কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। যেমন—থাইরয়েড, ডায়াবেটিস ইত্যাদি। যদি ঘরোয়া উপায়ে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমাধান না হয়, যদি পেট ফাঁপা লাগে, কোষ্ঠকাঠিন্য থাকার পর যদি ডায়রিয়া শুরু হয়, পায়খানার সঙ্গে রক্ত যায়, পায়খানা কালো হয়, যদি জ্বর আসে, সারাক্ষণ ক্লান্তি লাগতে থাকে, ওজন অনেক কমে যায়, রক্তশূন্যতায় ভোগেন, তাহলে দেরি না করে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

 

এমন আরো সংবাদ

Back to top button