অতিষ্ঠ হয়ে বীথি একাই খুন করেন পরকীয়া প্রেমিককে

বিয়ের পর পরকীয়ায় লিপ্ত হয়েছিলেন বীথি দেবনাথ (২২)। আর পরকীয়া প্রেমিক মাধব দেবনাথ (২৪) বিভিন্ন সময় বীথিকে বিষয়টিতে ইস্যু করে ব্ল্যাকমেইল করতেন। এতে বীথি অতিষ্ঠ হয়ে প্রেমিককে একাই খুন করেন। আদালতে এসব স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বীথি। গতকাল রবিবার সকালে তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নিহত মাধব দেবনাথ টেরিবাজার আফিমের গলিতে সোনার দোকানের কর্মচারী। বীথির স্বামী ছিলেন মাধবের মামতো ভাই পিন্টু দেবনাথ। খুনের শিকার মাধবের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর থানা এলাকায়।

গত শুক্রবার রাতে নগরের টেরিবাজারের আফিমের গলির চারতলা ভবনের নিচতলার একটি বাসার খাটের নিচ থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মাধবের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত মাধব একসময় তার মামাতো ভাই পিন্টুর হাজারিগলির সোনার দোকানের কর্মচারী ছিলেন। কয়েকমাস আগে মাধব অন্য একটি সোনার দোকানে কারিগর হিসেবে কাজ নেন। মাধব থাকতেন লালদীঘির পাড় এলাকায়। তবে দুই বেলা ভাত খেতে আসতেন পিন্টুর বাসায়। তখন থেকে বীথির সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে উঠে।

মাধবের হদিস না পাওয়ায় তিনদিন ধরে ছোট ভাই উত্তম দেবনাথ গত শুক্রবার দুপুরে গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম আসেন। এসে তিনি পিন্টুর বাসায় উঠেন। পিন্টু ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুপুরের খাবারও খান উত্তম। এ সময় বাসার একটি কক্ষ থেকে উৎকট দুর্গন্ধ বের হলে সেটা কিসের তা পিন্টুর কাছে জানতে চান উত্তম। জবাবে পিন্টু বলেন, ইঁদুর পচা থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে হয়ত।

উত্তম দেবনাথ পুলিশকে জানান, মাধবকে খুনের পর তার মোবাইল ফোন হত্যাকারীরা নিয়ে নেয়। তারাই আবার মাধবের মোবাইল ফোন থেকে মাধব সেজে তার বড়ভাই পিন্টুর মোবাইলে এসএমএস দিয়ে বলে, আমি এখন আন্দরকিল্লা এলাকায় আছি। আমি এখনো

হাজারিগলিতে আছি।

গতকাল রবিববার দুপুরে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, পরকীয়া সম্পর্কের কারণে মাধব বিভিন্ন সময় পিন্টুর স্ত্রী বীথিকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করতেন। এতে অতিষ্ঠ হয়ে বীথি একাই এ হত্যাকা- ঘটান। বীথি চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মাধব দেবনাথ হত্যামামলায় বীথি দেবনাথকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের আদেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এমন আরো সংবাদ

Back to top button