ময়মনসিংহ মহাসড়ক যুক্ত হচ্ছে থার্ড টার্মিনালে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

এগিয়ে চলছে মেগা প্রকল্প হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ কাজ। বিমানবন্দরে থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ হলে বছরে ১২ মিলিয়ন যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। ২০২৩ সালের মধ্যে শেষ হবে কাজ। সেখানে থাকবে বহুতল কার পার্কিং, আমদানি ও রপ্তানি কার্গো, ট্যাক্সিওয়ে অ্যাপ্রোন ইত্যাদি। বিমানবন্দরের সঙ্গে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ছয়টি স্থানে সংযোগ সড়ক স্থাপন হচ্ছে। এ জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) জমি ব্যবহারের সম্মতি দিতে চিঠি দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক একেএম মাকসুদুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, বিমানবন্দরের টার্মিনালের যোগাযোগের জন্য ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ককে যুক্ত করতে হবে। এ জন্য ছয়টি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা দরকার। প্রকল্পের আওতায় জমি বুঝিয়ে দিতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগকে অনুরোধ করেছে মন্ত্রণালয়। আমরা জানতে পেরেছি, তারা ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর থার্ড টার্মিনাল নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। প্রকল্পটি ২০২৫ সালের মধ্যে শেষ করার কথা। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয় ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ হবে। এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩৫০ একর জমির ওপর তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে। যাত্রীদের নির্বিঘ্নে তৃতীয় টার্মিনালে আগমন ও বহির্গমনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ছয়টি সংযোগ সড়ক দরকার। সওজের কাছে ১ দশমিক ৮১৬১ একর জমি ব্যবহারের অনুমতি দিতে বলা হয়েছে। সংযোগ সড়ক ১-এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পরিষেবা সংযোগ যেমন- পদ্মা অয়েল, স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, পাওয়ার ইনটেক ইত্যাদি স্থাপনায় ব্যবহৃত গাড়ি ৩ নম্বর টার্মিনালে আসা-যাওয়া করতে পারবে।

সংযোগ সড়ক-২ ঢাকা শহরের দক্ষিণ দিক থেকে আসা যাত্রীদের টার্মিনালে প্রবেশের জন্য ব্যবহার হবে। এই সংযোগের জন্য ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম দিকে জমি দরকার। ঢাকা শহরের দক্ষিণ দিক থেকে উড়াল সড়কের মাধ্যমে আসা গাড়ি টার্মিনালে প্রবেশের জন্য লাগবে সংযোগ সড়ক-৩। একই রকম জমি লাগবে যাত্রীদের জন্য টার্মিনাল থেকে ঢাকা শহরের উত্তর দিকে যেতে। এটিও মহাসড়কের পশ্চিমাংশে। মহাসড়কের পূর্ব পাশের জমি লাগবে যাত্রীদের টার্মিনাল থেকে ঢাকা শহরের দক্ষিণে নিতে। আর সংযোগ সড়ক-৬ দরকার ঢাকা শহরের উত্তর দিক থেকে উড়াল সড়কের মাধ্যমে টার্মিনাল ৩-এ প্রবেশ করতে। এ জন্যও দরকার মহাসড়কের পূর্ব দিকের জমি। দক্ষিণখান মৌজার এসব জমি বর্তমানে সওজের মালিকানায় আছে। আগে বেবিচকের মাধ্যমে অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। যানবাহনের চলাচলের স্বার্থে এসব জমি সওজকে দিয়েছিল বেবিচক।

সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, এক সময়ে সওজের সড়কপথ ও রেলওয়ের রেলপথ ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবন হয়ে দক্ষিণখান কসাইবাড়ী রেলগেট পর্যন্ত পাশাপাশি ছিল। সরকার তেজগাঁও বিমানবন্দরকে কুর্মিটোলায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিলে বিমানবন্দরের ভেতরের সওজের ৮৭ একর জমি বেবিচকের দখলে আসে। এটি বেবিচকের নামে রেকর্ডভুক্ত। অন্যদিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক নির্মাণের জন্য বেবিচকের অধিগ্রহণ করা জমি থেকে সড়কের রাস্তার প্রস্থ ২০০ ফুট ধরে ২৬ দশমিক ৭২ একর জমি সওজকে হস্তান্তর করা হয়। মহাসড়কের পশ্চিম পাশে এখন হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে। বর্তমানে মহাসড়কের মধ্যবর্তী স্থান থেকে উভয় দিকে কার্পেটিং ৫০ ফুট রাস্তা আছে। কার্পেটিংয়ের পর আরও ৫০ ফুট খালি রয়েছে, যা ছয়টি সংযোগ সড়ক স্থাপনের জন্য সওজের অনুমতি চাইছে বেবিচক।

বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের জন্য নেওয়া প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ হাজার ৫৯৮ কোটি ৬৪ লাখ ৮৪ হাজার ৬৯৯ টাকা। ৩৭টি উড়োজাহাজ রাখার অ্যাপ্রোন ও ১ হাজার ২৩০টি গাড়ি রাখার সুবিধা, ৬৩ হাজার বর্গফুট জায়গায় আমদানি-রপ্তানি কার্গো কমপ্লেক্স, ১১৫টি চেক-থার্ড টার্মিনাল ইন কাউন্টার সব মিলিয়ে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিমানবন্দরের সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে থার্ড টার্মিনালে। ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর শাহজালাল বিমানবন্দর সম্প্রসারণে এ প্রকল্পের অনুমোদন দেয় একনেক। জাপানের সিমুজি ও কোরিয়ার স্যামসাং যৌথভাবে এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম (এডিসি) নামে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। দুই দেশের চার শতাধিক দক্ষ জনবল কাজ করছেন।

প্রখ্যাত স্থপতি রোহানি বাহারিনের নকশায় টার্মিনালে ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের একটি ভবন তৈরি হবে। নির্মাণাধীন থার্ড টার্মিনালে কেবিন এক্স-রে মেশিন ৪০টি, বোর্ডিং ব্রিজ ১২টি, কনভেয়ার বেল্ট ১৬টি, বডি স্ক্যানার ১১টি, টানেলসহ বহুতলবিশিষ্ট কার পার্কিং ৫৪ হাজার বর্গমিটার, নতুন ইমপোর্ট কার্গো কমপ্লেক্স ও এক্সপোর্ট কার্গো কমপ্লেক্স ৬৩ হাজার বর্গমিটার, রেসকিউ ও ফায়ার ফাইটিং স্টেশন এবং ইক্যুইপমেন্ট ৪ হাজার বর্গমিটার, ভূমি উন্নয়ন, কানেক্টিং ট্যাক্সিওয়ে (উত্তর) ২৪ হাজার বর্গমিটার, কানেক্টিং ট্যাক্সিওয়ে (অন্যান্য) ৪২ হাজার ৫০০ বর্গমিটার, র‌্যাপিড এক্সিট ট্যাক্সিওয়ে (উত্তর) ২২ হাজার বর্গমিটার, র‌্যাপিড এক্সিট ট্যাক্সিওয়ে (দক্ষিণ) ১৯ হাজার ৫০০ বর্গমিটার থাকবে। ৩৩ হাজার বর্গমিটার সার্ভিস রোড ছাড়াও অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকবে ফানেল টানেল।

এমন আরো সংবাদ

Back to top button