রমনা থানার ওসি মনিরুল ও তদন্ত জহিরুলের কাছে জিম্মি এলাকাবাসী

রাজধানীর রমনা এলাকায় বসবাসরত সাধারণ জনগন ও ব্যবসায়ীরা ওসি মনিরুল ইসলাম ও ওসি তদন্ত জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে নীরব চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, টাকা খরচ করলেই রমনা থানায় যে কোন মিথ্যা মামলা দায়ের করতে কোনরুপ বেগ পেতে হয়না। মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকার নিরিহ জনগন ও ব্যবসায়ীদের হয়রানী করছে ওসি গং। মাঠপর্যায়ে সিন্ডিকেটটি নিয়ন্ত্রন করছে এসআই মাসুম। টাকা না দিলে রমনা থানায় সত্য ঘটনাও মিথ্যা হয়ে যায়। টাকা খরচ করলেই রমনা থানা থেকে যে কোন মামলার মিথ্যা প্রতিবেদন করা যায় ও চার্জশিট থেকে অভিযুক্ত আসামীদের নাম বাতিল করা যায় বলে প্রমান পাওয়া গেছে। এলাকার ফুটপাথের দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিস থেকে থানায় চাঁদা প্রদান না করলে প্রতিনিয়ত মিথ্যা মামলায় হয়রানির সম্মুখিন হতে হয় । আরও জানা গেছে, রমনা থানায় দায়েরকৃত অভিযোগের বাদী থানার ওসির দাবীকৃত চাহিদা পূরন না করায় পরবর্তিতে বাদী হয়ে যায় আসামী, আর আসামী হয়ে যায় বাদী। ওসি চক্রের হয়রানি থেকে রেহাই পাচ্ছে না সাধারণ জনগন থেকে শুরু করে এলাকার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, মার্কেট সমিতি, দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক সহ এলাকার সম্মানিত ব্যাক্তিরা।

জানা গেছে, গত ৩ মার্চ ফরচুন শপিং মলে দৈনিক সরেজমিন বার্তা পত্রিকার অফিসে এলাকার চিহিৃত সন্ত্রাসী , সুদখোর মোশাররফের নেতৃত্বে চাঁদার জন্য হামলা করে এবং পত্রিকার সম্পাদককে হত্যার উদ্দেশ্যে মার্কেটের ৬ তলায় নিয়ে একটি কক্ষে মারধর করে। ৯৯৯ এ ফোন দেওয়ার পর রমনা থানার পুলিশের একটি টিম সম্পাদককে উদ্ধার করে। ওই ঘটনার অডিও ও ভিডিও ফুটেজ রমনা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম, তদন্ত ওসি জহিরুল ইসলাম ও এসআই মাসুমকে সরবরাহ করলে তারা ঘটনার সত্যতা পেয়ে পরবর্তিতে থানায় মোশাররফ হোসেন গং এর বিরুদ্ধে মামলা গ্রহন করেন। মামলা নম্বর ৫(৩)২০২০। করোনাকালীন লকডাউনের সময় ওই মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত থাকে। পরবর্তিতে বাদীর সহিত মামলার বিষয়ে কোনরুপ আলোচনা ব্যতিত বিজ্ঞ আদালতে শতভাগ সত্য ঘটনাটির ১ নম্বর আসামী মো: মোশাররফ হোসেনকে অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে চার্জশিট থেকে বাদ দিয়ে বিজ্ঞ আাদালতে ঘটনাটি সত্য বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাসুম চার্জশিট দাখিল করে।

ঘটনার ব্যাপারে ওসি ও ওসি তদন্তকে মোবাইলে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাসুমকে ফোন করলে সে বলে, আদালতে নারাজী দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। মামলার মূল আসামী মোর্শারফকে চার্জশীট থেকে বাদ দিয়ে প্রতিবেদন দেওয়ায় বাদী ঢাকা ২১ নম্বর বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে নারাজি প্রদান করে পুনরায় তদন্ত করার আবেদন করে।

দুর্নীতিবাজ ও অসাধু কিছু পুলিশ কর্মকর্তার কারনে পুরো পুলিশ বাহিনীর বদমান হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিয়ে এলাকাবাসীকে তাদের অত্যাচার থেকে মুক্ত করা হোক। বিস্তারিত আরও জানতে চোখ রাখুন পত্রিকার পাতায়।

এমন আরো সংবাদ

Check Also
Close
Back to top button