সম্ভাবনাময় ইলেক্ট্রনিক স্কিন প্রযুক্তি

ইলেক্ট্রনিক স্কিন হচ্ছে এমন একটি আবিষ্কার যা মানুষের ত্বকের মতোই আচরণ করতে পারে। যার মাধ্যমে স্পর্শ অনুভূতি, ত্বকের প্রসারণসহ বিভিন্ন জৈবিক তথ্য পাওয়া সম্ভব। বিস্তারিত জানাচ্ছেন- আজহারুল ইসলাম অভি

পরবর্তী প্রজন্মের জন্য ইলেক্ট্রনিক স্কিন হতে পারে যুগান্তকারী এক সম্ভাবনার দুয়ার। ওষুধশিল্প, সফট রোবটিক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রেও এটি রাখতে পারে ভূমিকা। ইলেক্ট্রনিক স্কিনের আচরণ অনেকটাই মানুষের ত্বকের মতো। এটি ত্বকের মতোই শক্তিশালী, স্থিতিস্থাপক ও স্পর্শকাতর। এর মাধ্যমে রিয়েল টাইমে জৈবিক তথ্য পাওয়া সম্ভব বলে দাবি করছেন গবেষকরা। তারা এটিকে নাম দিয়েছেন ইলেক্ট্রনিক স্কিন বা সংক্ষেপে ই-স্কিন। ইচেন কাই বলেন, আদর্শ ইলেক্ট্রনিক স্কিন মূলত মানবত্বকের অনেক প্রাকৃতিক কার্যক্রম নকল করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে স্পর্শ ও তাপমাত্রার অনুভূতি রিয়েল টাইমে নিখুঁতভাবে জানার মতো সুবিধা।

গবেষক কাই এবং তার সহকর্মী শেন মিলে এই নকল চামড়া তৈরি করেন। কাই বলেন, স্কিন ইলেক্ট্রনিকসের ক্ষেত্র দিন দিন পরিবর্তিত হচ্ছে। এ ক্ষেত্র টুডি সেন্সর টেকসই কৃত্রিম ত্বক তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। কাই জানান, হাইড্রোজেল ব্যবহার করে এই টেকসই ই-স্কিন তৈরি করা হয়েছে। এতে সিলিকা ন্যানোপার্টিকেল ও টুডি টাইটানিয়াম কার্বাইড এমএক্সইন সেন্সিং লেয়ার ব্যবহার করা হয়েছে।

এগুলো উচ্চ পরিবাহী কিছু তার দ্বারা আটকানো হয়েছে যা খুবই ক্ষুদ্র। হাইড্রোজেলের মধ্যে রয়েছে ৭০ শতাংশ পানি, যা মানবত্বকের সঙ্গে সহজে মিশতে পারে। এই ইলেক্ট্রনিক স্কিনের একটি বিশেষত্ব হচ্ছে ২০ সেন্টিমিটার দূর থেকেও কোনো বস্তুর অনুভূতি বুঝতে পারা এবং এক সেকেন্ডের দশ ভাগের এক ভাগ সময়ে উদ্দীপনা জাগাতে পারে।

ওপরে একবার বলা হয়েছিল, ইলেক্ট্রনিক স্কিন নানা ধরনের জৈবিক তথ্য পর্যবেক্ষণ করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে রক্তচাপ পরীক্ষা। এটি রক্তচাপের তথ্য খুব সহজেই হয়তো জানাতে পারবে। ইলেক্ট্রনিক স্কিনের আরেকটি সুবিধা হচ্ছে এটি থেকে তথ্য শেয়ার করে তা ওয়াই-ফাই থেকে বিভিন্ন স্টোরেজে সংরক্ষণ করা যায়। কাইয়ের মতে, ‘জৈবিক তথ্য নিয়ে কাজের বাইরেও এই প্রযুক্তির আরও অনেক ব্যবহার নিয়ে কাজ করা যেতে পারে। ভবিষ্যতে এটি আসবাবপত্র এবং বিমানের মতো নির্জীব বস্তুর কাঠামোগত স্বাস্থ্যের ওপরও নজর রাখতে পারবে।’

 

এমন আরো সংবাদ

Back to top button