উত্তর কোরিয়ায় সরকারি নিয়ম ভাঙায় দুইজনকে হত্যা

মহামারি করোনাভাইরাস মোকাবিলায় উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে এ মাসের শুরুর দিকে লকডাউন জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট কিম জং-উন। এ ছাড়া করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সরকারি নির্দেশ না মানায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে তার সরকার।

দক্ষিণ কোরিয়ায় গুপ্তচর সংস্থা ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্স সার্ভিসের (এনআইএস) বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য সানের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে এক ব্রিফিংয়ে দেশটির জনপ্রতিনিধি হা তাই-কেউং বলেন, করোনা মহামারর মধ্যে কিম জং-উন অযৌক্তিক পদক্ষেপ নিচ্ছেন।’

গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএস জানিয়েছে, করোনার নতুন ধাক্কা মোকাবিলায় পিয়ংইয়ংয়ে লকডাউনের পাশাপাশি সমুদ্র থেকে মাছ ধরা ও লবণ তৈরি বন্ধ রয়েছে। এমনকি উত্তর কোরিয়ার জনগণের বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির উপরও কড়া নজর রাখছে সরকার। এক্ষেত্রেও জারি হয়েছে নতুন বিধিনিষেধ।

করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা সামাল দিতে মানুষকে হত্যা করতেও পিছপা হচ্ছেন না কিম জং উন। গত মাসে দেশের মুদ্রা বিনিময় মূল্য বা মানি এক্সচেঞ্জ রেট পতনের জন্য এক মানি এক্সচেঞ্জারকে দায়ী করেন কিম উন। সেই অপরাধে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন তিনি।

এমনকি সরকারি নিয়মভঙ্গ করে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি করায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এক সরকারি কর্মকর্তাকেও। তবে তাদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা।

গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, ‘করোনা মোকাবিলায় ধ্বংসাত্মক সকল কর্মসূচি নিয়েছে কিম সরকার। উত্তর কোরিয়ার চিকিৎসা সেবার মানও ভালো নয়। এ মাসের শুরুর দিকে করোনা মোকাবিলায় উত্তর কোরিয়া-চীন সীমান্তে কিম সরকার মাইন পুঁতে দেয়। চীন থেকে কেউ যেন উত্তর কোরিয়ায় না ঢুকতে পারে এবং উত্তর কোরিয়া থেকে কেউ যেন গোপনে চীনে যেতে না পারে সেই জন্য এ ব্যবস্থা নেয় পিয়ংইয়ং।

এ ছাড়া রয়টার্স জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা ভ্যাকসিন তৈরির প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকার কাছে ভুয়া বার্তা পাঠিয়েছিল। এ ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম লিংকডইন ও হোয়াটঅ্যাপ ব্যবহার করে তারা অ্যাস্ট্রাজেনেকার কর্মীকে ভুয়া চাকরির প্রস্তাব দেয়। হ্যাকাররা চাকরির বিবরণযুক্ত কিছু ডকুমেন্টস তাদের কাছে পাঠায়। কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণে নিতে ওই ডকুমেন্টের সঙ্গে ক্ষতিকর ভাইরাস পাঠিয়ে দেয় উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা।

 

এমন আরো সংবাদ

Back to top button