আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা ও ক্ষমতা দখলের চেষ্টা নস্যাৎ

আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানকে হত্যা করে ক্ষমতা দখলের প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে দেশটির ন্যাশনাল সিকিউরিটি সার্ভিস- এনএসএস।

কয়েকজন বিপজ্জনক সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা এই অপচেষ্টা করে বলে দাবি সংস্থাটির। প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে সংস্থাটির সাবেক প্রধান আর্তুর ভেনেতসিয়ান, রিপাবলিকান পার্টির সংসদীয় দলের প্রধান ভাহরাম বাঘদাসারিয়ান এবং যুদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক আশোট মিনাসায়ান আটক হয়েছে।

শনিবার (১৪ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে ন্যাশনাল সিকিউরিটি সার্ভিস জানায়, সন্দেহভাজনরা প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পরিকল্পনা করছিলেন এবং তার জায়গায় নতুন কাউকে ক্ষমতায় বসানো নিয়েও ষড়যন্ত্র করছিলো।

মূলত রাশিয়ার মধ্যস্থতায় নাগর্নো-কারাবাখের শান্তি চুক্তির বিরোধিতায় গেল কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ চলছে আর্মেনিয়ায়। রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে সরকারবিরোধী আন্দোলন অব্যাহত আছে। আন্দোলনকারীরা শান্তিচুক্তি প্রত্যাখান করে প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনয়ানের পদত্যাগের দাবি জানান। কিন্তু ফেসবুক লাইভে নিজের বক্তব্য জানান প্রধানমন্ত্রী। পদত্যাগের সম্ভাবনাও খারিজ করে দেন। এর মধ্যেই তার বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠলো।

প্রায় ছয় সপ্তাহ যুদ্ধ চলার পর গত (৯ নভেম্বর) সোমবার রাশিয়ার মধ্যস্থতায় আর্মেনিয়া, আজারবাইজান এবং রাশিয়া একটি চুক্তি সই করে। নাগর্নো-কারাবাখ নিয়ে সেই শান্তি চুক্তিতে সব চেয়ে লাভ হয়েছে আজারবাইজানের। চুক্তিতে স্থির হয়েছে, কোনো পক্ষই আপাতত আর যুদ্ধে জড়াবে না। রাশিয়ার সেনা এলাকায় টহল দেবে এবং শান্তি বজায় রাখবে। ছয় সপ্তাহের যুদ্ধে যে যেখানে অবস্থান করছে, সেই এলাকা তার দখলে থাকবে। এর আগেই যুদ্ধে নাগর্নো-কারাবাখের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখলে নিয়েছে আজারি বাহিনী। ফলে চুক্তিতে লাভ হয়েছে আজারবাইজানের। বিপদে পড়েছে আর্মেনিয়া।

নাগার্নো-কারাবাখের যেসব জায়গায় আর্মেনিয়ারা নিজেদের ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে বাধ্য হয়ে এলাকা ত্যাগ করছেন। ফলে সেখানে থাকা বহু আর্মেনিয়ান এখন বাস্তুচ্যুত। এ অবস্থায় দেশটির প্রধানমন্ত্রীর ওপর প্রতিনিয়ত চাপ বাড়ছে। এক অনিশ্চিয়তার দিকে আর্মেনিয়া সরকার।

বিতর্কিত নাগার্নো-কারাবাখ অঞ্চলটিকে আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের বলে স্বীকৃতি দেয়া হলেও এতদিন তার নিয়ন্ত্রণ ছিল আর্মেনীয়ার দখলে। নব্বইয়ের দশকের যুদ্ধের পর অঞ্চলটির দখল নেয় আর্মেনিয়া। এ নিয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর দু’দেশের মধ্যে আবারো সংঘাতে গড়ালে আর্মেনিয়ার ২ হাজারের বেশি যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন। আজারবাইজানের হতাহতের সংখ্যা কম নয়।

এমন আরো সংবাদ

Back to top button