শ্বশুরবাড়িতে শিকলে বাঁধা জামাই

‘কাবিন না করায়’ বরগুনা সদরে শ্বশুরবাড়িতে এক যুবককে শিকলে বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় যুবকের স্ত্রী, শাশুড়ি ও শ্যালককে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের পশ্চিম বুড়িরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আটককৃতরা হলেন, যুবকের স্ত্রী মৌসুমী আক্তার কাকলী, শ্যালক সোহাগ সরদার ও শাশুড়ি খাদিজা বেগম। বরগুনা থানার এসআই ওবায়দুল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া যুবকের নাম আবুল খায়ের (২৬)। তিনি পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার ছোট আমতলা গ্রামের আবদুল ওহাব শেখের ছেলে।

জানা গেছে, আবুল খায়ের ও মৌসুমী আক্তার কাকলীর বিয়ের সময় কাবিন করা হয়নি। বিয়ের পর ২ বছর পার হলেও কাবিন না করায় রোববার সন্ধ্যায় আবুল খায়ের শ্বশুরবাড়িতে গেলে তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়।

এ ব্যাপারে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত ককর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম জানান, গতকাল সোমবার রাত ১০টার দিকে খবরটি শোনার পর পুলিশ ওই বাড়ি থেকে আবুল খায়েরকে উদ্ধার করে এবং তিন জনকে আটক করেছে।

আবুল খায়ের বলেন, ‘শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পরই শ্যালক সোহাগ সরদার তার পায়ে শিকল দিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখেন।’ আবুল খায়েরের শ্যালক সোহাগ সরদার জানান, তার বোনের বিয়ের সময় কাবিন হয়নি। তাই কাবিন করতে বাধ্য করার জন্য বোনের জামাইকে বেঁধে রেখেছেন। কাবিন করলেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হতো।

আবুল খায়েরের শ্বাশুড়ি খাদিজা বেগম জানান, রোববার আবুল খায়ের তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। এরপর তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখেন ছেলে সোহাগ। আবুল খায়েরের স্ত্রী মৌসুমী আক্তার কাকলী বলেন, ‘দুই বছর আগে আবুল খায়েরের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের আট মাস বয়সী একটি মেয়ে আছে।’

এমন আরো সংবাদ

Back to top button