পরকীয়ার জেরে শাহিনা হত্যা : স্বামী-স্ত্রীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

লালমনিরহাটে পরকীয়ার জেরে বিধবা শাহিনা বেওয়া হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দম্পতি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল সোমবার সন্ধ্যার দিকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফাজ উদ্দিনের আদালত তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। গ্রেপ্তার দম্পতি হলেন-লালমনিরহাট সদর উপজেলার খোচাবাড়ি এলাকার মৃত মহির উদ্দিনের ছেলে দবিয়ার রহমান (৪০) ও তার স্ত্রী শাহিনা বেগম (৩৩)।

এর আগে গত শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে সদর উপজেলার চরাঞ্চল খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের কালমাটি আনন্দ বাজার পাকার মাথা এলাকা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বিধবা শাহিনা বেওয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত শাহিনা বেওয়া আদিতমারী উপজেলার পুর্ব ভেলাবাড়ি গ্রামের কমর উদ্দিনের বিধবা মেয়ে।

জানা যায় , মৃত শাহিনা বেওয়া পেশায় একজন কবিরাজ। তার রোগী ছিলেন সদর উপজেলার খোচাবাড়ি এলাকার দবিয়ার রহমান। চিকিৎসার একপর্যয়ে স্বামীহারা হন শাহিনা বেওয়া। এরপর রোগী দবিয়ারের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন তিনি। চিকিৎসায় দবিয়ার সুস্থ্য হলে বিয়ের জন্য চাপ দেন শাহিনা বেওয়া। কিন্তু স্বামীর পরকীয়া প্রেম ও বিয়ে মানতে নারাজ দবিয়ারের স্ত্রী শাহিনা বেগম।

বিয়ের জন্য প্রায় সময় দবিয়ারের বাড়িতে অবস্থান নেয় শাহিনা বেওয়া। এতে অতিষ্ট হয়ে দবিয়ার রহমান ও তার স্ত্রী শাহিনা বেগম পরিকল্পনা করে গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) কৌশলে ডেকে নিয়ে পরকীয়া প্রেমিকা শাহিনা বেওয়াকে হত্যা করে। পরদিন শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে কালমাটি আনন্দবাজার পাকার মাথা চরাঞ্চলে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিলে তার আত্নীয়স্বজনরা মৃত শাহিনা বেওয়ার পরিচয় শনাক্ত করে।

এ ঘটনায় নিহত শাহিনা বেওয়ার ভাই একরামুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ মামলার মূলহোতা পরকীয়া প্রেমিক দবিয়ার ও তার স্ত্রী শাহিনা বেগমকে রোববার (৮ নভেম্বর) রাতে গ্রেপ্তার করে সদর থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার দম্পতিকে সোমবার সন্ধ্যায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফাজ উদ্দিনের আদালতে হাজির করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এমন আরো সংবাদ

Back to top button