ইতালি প্রবাসীকে প্রকাশ্যে গুলি করে ডাকাতি, অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৩

সাভারের আমিনবাজার এলাকায় ইতালি প্রবাসীকে প্রকাশ্যে গুলি করে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত আন্তঃজেলা ডাকাত দলের তিন সদস্যকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মোস্তাফিজুর রহমান (৩৮), নাসির (৩৮) ও আবদুল বারেক সিকদার (৪৫)। আজ শনিবার কারওয়ান বাজারের র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানিয়েছেন র‍্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক।

তিনি জানান, গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে প্রাইভেটকার যোগে ডাকাতি প্রস্তুতি গ্রহণের সময় একটি প্রাইভেটকার, দুটি বিদেশী পিস্তল, একটি রিভলবার, ১২ রাউন্ড গুলি, একটি ছুরি, দুটি লোহার পাইপ জব্দ ও লুন্ঠিত ৫০ হাজার টাকা উদ্ধারসহ সাভারের বিরুলিয়া জোড়া ব্রিজ এলাকা থেকে ডাকাত দলের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক জানান, গত ২৮ অক্টোবর সকালে ইতালি প্রবাসী মো. আমানুল্লাহ (৪০) সস্ত্রীক আমিনবাজারে একটি ব্যাংক হতে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে টাকা উত্তোলন করে ভাড়া করা কার গাড়িতে করে কেরানীগঞ্জের বাড়ি ফিরছিলেন। ভাকুর্তা লোহারব্রিজের কাছে পৌঁছালে পেছন থেকে অনুসরণ করে আসা তিনটি মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার যোগে ডাকাতদল প্রকাশ্য দিবালোকে ওই কার গাড়ির গতিরোধ করে এলোপাতাড়ি গুলি করে। এ সময় ভুক্তভোগীর স্ত্রীর হাতে থাকা গোলাপী রঙের ভ্যানিটি ব্যাগে থাকা ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও মোবাইলসহ ভ্যানিটি ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় ডাকাতরা।

পরবর্তী সময়ে স্থানীয়দের সহযোগীতায় বাম পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ভুক্তভোগী আমানুল্লাহকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর স্ত্রী।

তিনি আরও জানান, এই ক্লুলেস ঘটনায় সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রটিকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে ঘটনার দিন থেকেই মাঠে নামে র‌্যাব-৪ এর একটি চৌকস আভিযানিক গোয়েন্দা দল। ছায়া তদন্তের শুরুতেই ব্যাংকের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে ক্যাপ পরিহিত এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করে র‌্যাবের গোয়েন্দা দল এবং এরই সূত্র ধরে র‌্যাব-৪ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল।

আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‍্যাব জানায়, আসামিরা ছদ্মনাম নামধারী ১০-১২ জনের আন্তঃজেলা সশস্ত্র দুর্র্ধর্ষ ডাকাত দলের সদস্য। দলকে তারা কোম্পানি বলে। প্রত্যেক সদস্যের একটি করে ছদ্মনাম থাকে। এ দলের অন্যতম সদস্য ব্যাংকে সেদিন ক্যাপ পরিহিত অবস্থায় ছিল এবং ব্যাংকের টাকা উত্তোলনকারীদের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রেখে বাইরে মোটরসাইকেলে ওঁৎ পেতে থাকা নাসিরসহ (৩৮) তার অন্যান্য সহযোগীদেরকে তথ্যটি জানায়।

গ্রেপ্তারকৃত আরেক আসামি বারেক সিকদার (৪৫) মূলত ছিলেন ডাকাতদের অস্ত্র ও ছিনতাইকৃত টাকা বহন করার কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার গাড়ির চালক। তার গাড়িটি ডাকাতির কাজে অন্যান্য সহযোগীদের অস্ত্রসহ বহন করে আসছিল।

জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‍্যাব আরও জানায়, এই চক্রের সদস্যরা ডাকাতির সময় নির্দিষ্ট মোবাইল ফোন ও নম্বর ব্যবহার করতো এবং ডাকাতি শেষে সেসব মোবাইল ফোন-সিম নষ্ট ও ব্যবহৃত জামা-কাপড় ফেলে দিতো। গ্রেপ্তারকৃত বেশির ভাগ আসামিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, ডাকাতি ও হত্যা মামলা রয়েছে এবং সেসব মামলায় জামিন পেয়ে পুনরায় একই কাজে লিপ্ত হয়।

 

এমন আরো সংবাদ

Back to top button