কারাগারে আমরণ অনশনে সৌদি মানবাধিকার কর্মী

সৌদি আরবের প্রখ্যাত নারী মানবাধিকার কর্মী লুজাইন আল-হাসুলল কারাগারে আমরণ অনশন শুরু করেছেন। স্থানীয় সময় সোমবার ২৬ অক্টোবর কারাগারের কক্ষ থেকে খাবার ফেরত পাঠাচ্ছেন, খবর প্রকাশ করেছে তুর্কি সংবাদমাধ্যম টিআরটি।

কারাগারে বন্দী থাকা অবস্থায় তাকে ফোন কল রিসিভ করতে দেয়া হয় না এবং পরিবারের লোকজন তার সঙ্গে দেখা করতে না পারার প্রতিবাদেই অনশন শুরু করেছেন লুজাইন।

মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তার বোন লিনা আল-হাসুল জানান, সোমবার থেকে লুজাইন অনশন শুরু করেছেন। তাকে পরিরবারের লোকজনের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে দেয়া হয় না, এমনকি দেখাও করতে দেয় না সৌদি কর্তৃপক্ষ। তার সঙ্গে সরকার খুবই বাজে আচরণ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

যতক্ষণ না পর্যন্ত তার দাবি না মানা হয় আমরণ অনশন চলবে বলে জানান ওই মানবাধিকার কর্মী।

৩১ বছর বয়সী লুজাইনের এমন ঘটনার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কেউ মুখ খুলছে না। তিনি কারগারে যৌন হয়রানি, বিদ্যুতের শকসহ নানাভাবে অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করে আসছে লুজাইনের পরিবার।

ওই মানবাধিকার কর্মী নিজেও অভিযোগ করেন, তাকে ধর্ষণ এবং হত্যারও হুমকি দিয়েছিলেন সৌদি রাজপরিবারের প্রাক্তন মিডিয়া উপদেষ্টা সৌদি অঅল কাহতানি।

এর আগে, গত আগস্ট মাসে লুজাইন ছয় দিনের জন্য অনশন করেন। সে সময় তার দিনে পরিবারের লোকজনের একটি মাত্র ফোন কল রিসিভ করার অনুমতি ছিল এবং ছয় মাসে দুজন পারিবারিক সদস্য তার সঙ্গে দেখা করতে পারতেন।

কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েট করা ৩১ বছর বয়সী লুজাইনকে আটক করে রাজধানী রিয়াদের আল-হেয়ার কারাগারে রাখা হয়েছে। তিনি নারীদের ওপর থেকে গাড়ি চালানোর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী ছিলেন। ২০১৪ সালেও তিনি ৭০ দিনের জন্য আটক হয়েছিলেন। তবে এবার তার জীবন নিয়ে শঙ্কা জানায় পরিবার। ২০১৮ সাল থেকে তিনি সৌদির কারগারে বন্দী।

এমন আরো সংবাদ

Back to top button