পদ্মা সেতু ৫ কিলোমিটারের বেশি দৃশ্যমান

মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর ৭ ও ৮ নম্বর পিলারের উপর বসলো ৩৪ তম ‘টু-এ’ স্প্যান। আজ রোববার সকাল ১০টা ৭ মিনিটের দিকে স্প্যানটি বসানো হয়। এর মাধ্যমে দৃশ্যমান হলো সেতুর ৫ হাজার ১০০ মিটার বা ৫.১ কিলোমিটার। ৩৩তম স্প্যান বসানোর ষষ্ঠদিনের মাথায় বসানো হলো এ স্প্যানটি।

পুরো সেতুতে এখন বাকি থাকলো সাতটি স্প্যান বসানো। আর দৃশ্যমান হওয়া বাকি ১ হাজার ৫০ মিটার। সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক (মূল সেতু) দেওয়ান মো. আবদুল কাদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গতকাল শনিবার বিকেল ৪টার দিকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের মাওয়ায় অবস্থিত কন্সট্রাকশন ইয়ার্ডের স্টিল ট্রাস জেটি থেকে স্প্যানটি বহন করে পৃথিবীর সবচয়ে বড় ভাসমান ক্রেন তিয়ান-ই রওয়ানা দেয়। প্রায় ৩০ মিনিট পর কাঙ্ক্ষিত পিলারের কাছে পৌঁছে ৩ হাজার ৬শ’ টন সক্ষমতার ক্রেনটি। সেখানে সারা রাত অবস্থান করে। রোববার সকালে ভাসমান ক্রেনটি নোঙর ও পজিশনিং শেষে পিলারের ওপর রাখা হয় স্প্যানটিকে।

প্রকৌশলীরা জানান, স্প্যান বসানোর জন্য দুদিন সময় নেওয়া হয়। প্রথমদিন বৈরী আবহাওয়ার জন্য পিলারের উপর বসানো যায়নি। কিন্তু পরদিন অনুকূল আবহাওয়া থাকায় দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীদের চেষ্টায় সফলভাবে বসানো সম্ভব হয়।

এদিকে, পদ্মা সেতুতে বাকি থাকবে সাতটি স্প্যান বসানো। ৩০ অক্টোবর পিয়ার ৮ ও ৯ নম্বরের উপর ৩৫তম স্প্যান (স্প্যান ২-বি), ৪ নভেম্বর পিয়ার ২ ও ৩ নম্বরে ৩৬তম স্প্যান (স্প্যান ১-বি), ১১ নভেম্বর পিয়ার ৯ ও ১০ নম্বরে ৩৭তম স্প্যান (স্প্যান ২-সি), ১৬ নভেম্বর পিয়ার ১ ও ২ নম্বরে ৩৮তম স্প্যান ( স্প্যান ১-এ), ২৩ নভেম্বর পিয়ার ১০ ও ১১ নম্বরে ৩৯তম স্প্যান ( স্প্যান ২-ডি), ২ ডিসেম্বর পিয়ার ১১ ও ১২ নম্বরে ৪০তম স্প্যান (স্প্যান ২-ই) ও ১০ ডিসেম্বর সবশেষ ৪১ নম্বর স্প্যান ( স্প্যান ২-এফ) বসবে ১২ ও ১৩ নম্বর পিয়ারের উপর।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ৬.১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দ্বিতল পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ৩০ হাজার ১৯৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে গৃহীত এই প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৮১ দশমিক ৫০ ভাগ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৮৭ দশমিক ৫৫ ভাগ। নদী শাসন কাজের বাস্তব অগ্রগতি ৭৪ দশমিক ৫০ ভাগ। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে ২৩ হাজার ৭৯৬ দশমিক ২৪ কোটি টাকা।

মূল সেতু নির্মাণের কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড (এমবিইসি) এবং নদী শাসনের কাজ করছে চীনের আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন।

এমন আরো সংবাদ

Back to top button