ভোল পাল্টানো হামিদুলের ‘একচেটিয়া রাজত্ব’ সওজে

ভোল পাল্টানো হামিদুলের 'একচেটিয়া রাজত্ব' সওজে
ভোল পাল্টানো হামিদুলের ‘একচেটিয়া রাজত্ব’ সওজে

নিজস্ব প্রতিবেদক :
চারদলীয় জোট সরকাররের সময় হাওয়া ভবনের আশির্বাদপুষ্ট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হামিদুল হক এখনো মহা প্রতাপশালী। অপকর্মের জেরে এক এগারোর সময় আসেন শাস্তির আওতায়। সে সময় নানা অপকর্মের কয়েকশ অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। তারপর বতর্মানের সরকারের সময় আছেন বহাল তবিয়তে । এরই মাঝে দূর্নীতির মাধ্যমে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। সরকারী দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী হলেও নিজেই খুলে বসেছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। হামিদুল হকের কমিশন ছাড়া ছাড় পায় না কোন ঠিকাদারের বিল।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত নওগাঁ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হামিদুল হক । চারদলীয় জোট সরকারের সময় হাওয়া ভবনের চেরাগ পাওয়া এই প্রকৌশলী রাজত্ব করেছেন গোট অধিদপ্তরে।
ওয়ান ইলাভেনের সময় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পড়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক। এরপর আসেন শাস্তির আওতায় । তবে সরকারের পট পরিবর্তনের সাথে সাথেই নিজের রঙ বদলি‌য়ে সুচতুর হামিদুল হক বনে যান আওয়ামীলীগার। এরপর আর তাকে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি।
একের এক ঘুপচি টেন্ডার, কমিশন বানিজ্য ও নামে বেনামে নিজেই ঠিকাদারী করে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। গাইবান্ধা ও নওগা যেখানেই চাকুরী করেছেন, সেখানেই রয়েছে তার অগনিত সম্পদ।
বগুড়ায় তার শশুরবাড়ী‌তে কিনেছেন প্রায় ত্রিশ বিঘা জমি, সাতটি ফ্ল‌্যাট। ঢাকায় রয়েছে একটি বাড়ী ও তিনটি ফ্ল‌্যাট।
হা‌মিদু‌লের কমিশন বাণিজ্যের কারনে তার দপ্তরের পেশাদার ঠিকাদাররা পথে বসেছেন। ঠুনকো অজুহাতে প্রকৃত ঠিকাদারদের কাজ না দিয়ে তার নিজস্ব ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেন তিনি। ভুয়া স্টিমেট করেও হাতিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা।
নওগাঁয় অফিস হলেও বগুড়ায় থাকেন সবসময়। বগুড়ায় নিজেই খুলেছেন ব্যক্তিগত ক্লাব। সেখানে রাত এগারোটা থেকে ভোর ছয়টা পর্যন্ত চলে জুয়ার আসর ও নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ড। এসব বিষয়ে প্রায় এক হাজার অভিযোগ পড়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে। এসব বিষয় নিয়ে প্রকৌশলী হামিদুল হকের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলে কথা বলতে রাজি হননি তিনি। উল্টো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছেন হামিদুল হক।
হামিদুল হকের বিরুদ্ধে আনিত এসব অভিযোগের বিষয়ে সড়ক ও জনপথের প্রধান প্রকৌশলী কাজী শাহ‌রিয়ার হোসেন জানান, দপ্তরে জমা পড়া অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছেন তারা। অ‌ভি‌যো‌গের সত্যতা পাওয়া গে‌লে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

এমন আরো সংবাদ

Check Also
Close
Back to top button