যুদ্ধবিরতির ঘোষণা: ইয়েমেনে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিন

hura menঅবশেষে ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলো। সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন আরব জোট বহুল কাঙ্খিত এ ঘোষণা দেয়। এ ঘোষণা যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটিতে একটি রাজনৈতিক সমাধানের দুয়ার খুলে দিয়েছে। পাশাপাশি ইয়েমেনে করোনাভাইরাসের বিস্তারের বিরুদ্ধে লড়াই করাটা সহজ হবে।
এ যুদ্ধবিরতি দু’সপ্তাহের জন্য স্থায়ী হবে। করোনাভাইরাসের বৈশি^ক মহামারীর সময় জাতিসংঘের আহ্বানে এ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয় বলে জানিয়েছেন আরব জোটের এক মুখপাত্র। সাময়িক বিরতি হলেও এ ঘোষণা ইয়েমেনের সব পক্ষকে একটি টেকসই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব, পদক্ষেপ এবং কৌশল নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ এনে দিয়েছে। ইয়েমেনে যুদ্ধরত পক্ষগুলোর একটি ব্যাপক রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছার সুযোগ হাতের নাগালে এসেছে।
ইয়েমেনে এক জটিল সময়ে এ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলো। দেশটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কারো করোনায় সংক্রমিত হওয়ার বা মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে জাতিসংঘ ও ত্রাণ কর্মীরা এর আগে সতর্ক করে দেন যে, ইয়েমেনে যদি এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে তবে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। কারণ, পাঁচ বছর আগে ইরান সমর্থিত শিয়া হুথি বিদ্রোহীরা দেশটির বৈধ সরকারকে উৎখাত করার পর সেখানকার যুদ্ধমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
এ যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন আরব নেতারা। তারা একে একটি বুদ্ধিদীপ্ত, দায়িত্বশীল ও সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, হুথি বিদ্রোহীরা এ উদ্যোগকে মেনে নেবে। পাশাপাশি ইয়েমেনের জনগণকে রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মানবিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেবে।
বিশে^র সব জায়গায় সংঘাত বন্ধ করে বৈশি^ক মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইর আহ্বান জানানো জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস এ যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। এ যুদ্ধবিরতি দেশটিকে শান্তির পথে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। একইসাথে তিনি হুথি বিদ্রোহীদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অবিলম্বে সব ধরণের শত্রুতামূলক আচরণ বন্ধেরও আহ্বান জানান।
এ যুদ্ধবিরতির পর দু’পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। হুথি বিদ্রোহীদের কারণে এর আগের শান্তি আলোচনাগুলো ব্যর্থ হয়ে যায়। হুথিরা জাতিসংঘের প্রস্তাব এবং ২০১৪ সালে উপসাগরীয় দেশগুলোর সংগঠন জিসিসি’র মধ্যস্থতায় শান্তি প্রচেষ্টা মানতে অস্বীকার করে।
তাই নতুন দফা যুদ্ধবিরতি যে সুযোগ এনে দিয়েছে তাতে জাতিসংঘকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। আর হুথি বিদ্রোহীদের শান্তির ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেয়ার ব্যাপারে দৃঢ় হতে হবে।
শিয়া হুথি বিদ্রোহী এবং তাদের প্রধান সমর্থক ইরানকে অবশ্যই ইয়েমেনের জনগণের শান্তি প্রচেষ্টায় এগিয়ে আসতে হবে। কেননা ইয়েমেনের জনগণ একদিকে হুথি বিদ্রোহীদের নির্মমতা ও অন্যদিকে করোনাভাইরাসের ভয়াবহ বিপদের মুখোমুখি অবস্থান করছে।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

atmustakim@gmail.com

এমন আরো সংবাদ

Back to top button