১ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন জমা

কর অঞ্চলেই মিলবে আয়কর মেলার সেবা

আয়কর দিবস উপলক্ষে ২০১০ সাল থেকে করসেবা প্রদান ও কর সচেতনতা বাড়াতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে আয়কর মেলার আয়োজন করে আসছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। মেলায় করদাতারা ভোগান্তি ছাড়াই আয়কর এবং কর বিবরণী জমা দিয়েছেন। কিন্তু গত বছর দেশে করোনা মহামারীর প্রকোপের কারণে বসেনি এই মেলার আসর। এর ধারবাহিকতায় চলতি বছরও আয়কর মেলা হচ্ছে না। তবে করদাতারা যাতে ভোগান্তি ছাড়াই কর বিবরণী জমা দিতে পারেন এ জন্য কর অঞ্চলেই মেলার মতো একই সুবিধা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর। অর্থাৎ আয়কর মেলায় যত রকম সেবা পাওয়া যেত, সব সুবিধা পাওয়া যাবে কর অঞ্চলের অফিসগুলোতে। আগামী ১ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত মেলার আবহে এই রিটার্ন জমা নেওয়া হবে।

এনবিআর সূত্র জানায়, গত ৭ অক্টোবর সার্বিক বিষয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আয়কর মেলার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

এরপর ১০ অক্টোবর এনবিআর চেয়ারম্যানের সম্মতিক্রমে চূড়ান্ত করা হয়েছে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত। এগুলো হলো- কর কমিশনার অঞ্চলগুলোতে গত বছরের মতো জাঁকজমকপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ১ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আয়কর রিটার্ন নেওয়ার জন্য করদাতাদের সেবা প্রদান করা হবে। এ ছাড়া প্রতিটি অফিসের উন্মুক্ত জায়গায় স্থাপন করা হবে রিটার্ন গ্রহণ বুথ ও হেল্প ডেস্ক। রিটার্ন দাখিলকারী করদাতাদের তাৎক্ষণিক প্রাপ্তিস্বীকারপত্রের সঙ্গে রিটার্ন দাখিলে উৎসাহ দিতে দেওয়া হবে উপহারসামগ্রী। সব কর কমিশনার সেবাকেন্দ্রে ব্যবস্থা থাকবে ই-টিআইএন রেজিস্ট্রেশন ও রি-রেজিস্ট্রেশনের। কর অঞ্চলের নিজস্ব ওয়েবসাইট তথ্যসহ হালনাগাদ করা, ওয়েবসাইটে আয়কর সংক্রান্ত বিভিন্ন ফরম, পরিপত্র, রিটার্ন পূরণের নির্দেশিকা, ভিডিও টিউটোরিয়ালসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সন্নিবেশ করা হবে। কর অঞ্চলগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রাখবে। কর অঞ্চল ৪-এর ব্যবস্থাপনায় সচিবালয়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সচিবালয় ও অফিসার্স ক্লাবের সদস্যদের জন্য অফিসার্স ক্লাবে রিটার্ন গ্রহণ বুথ ও হেল্প ডেস্ক স্থাপনের মাধ্যমে সেবা প্রদান করা হবে। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে ২ নভেম্বর করদাতাদের রিটার্ন গ্রহণ ও কর তথ্য সেবা প্রদান করা হবে। কর অঞ্চলের কমিশনাররা তাদের নিজ নিজ কর অঞ্চলের পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

ব্যক্তির আয় থাকুক আর না থাকুক, আইনে বার্ষিক আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। যথাসময়ে রিটার্ন জমা না দিলে জরিমানাসহ সুদ গুনতে হয়। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও সময় চেয়ে আবেদন করা যায়। বর্তমানে টিআইএন রয়েছে এমন লোকের সংখ্যা ৬২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু বার্ষিক রিটার্ন দাখিল করেন মাত্র ২৫ লাখ মানুষ। এনবিআরের অধীনে সারাদেশে ৩৩টি কর অঞ্চল রয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় সবচেয়ে বেশি। এসব কর অঞ্চলে শামিয়ানা টাঙিয়ে আলাদা বুথ করা হবে। যে করদাতা যে কর অঞ্চলে অধিভুক্ত, তিনি সেই সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে সেবা পাবেন।

গত মাসে ‘রাজস্ব আহরণ কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম জানিয়েছিলেন, করোনা মহামারীর প্রভাব এখনো পুরোপুরি না কাটায় এ বছরও আয়কর মেলার আয়োজন করা হচ্ছে না। সবকিছু পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে পরবর্তী মেলার আয়োজন করা হবে। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, যারা আয় থাকলেও কর দিচ্ছে না, তাদের নোটিশ করা হবে। এরপর না দিলে নেওয়া হবে ব্যবস্থা।

এমন আরো সংবাদ

Check Also
Close
Back to top button