৩২০০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্রধানমন্ত্রীর

নিম্ন আয়ের ১৭ লাখ ২৪ হাজার ৪৭০ জন পাবেন

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত নিম্ন আয়ের মানুষকে রক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পর্যটন খাতের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন পাঁচটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। সব মিলিয়ে নতুন এসব প্যাকেজে তিন হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

দেশে করোনা প্রাদুর্ভাবের পর এ নিয়ে সরকার মোট ২৮টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করল। এর মোট আর্থিক মূল্য এক লাখ ৩১ হাজার ৬৪১ কোটি টাকা।

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত নতুন পাঁচটি প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে প্রথম তিনটির অর্থের জোগান দেওয়া হবে বাজেট থেকে। বাকি দুটির অর্থ আসবে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে।

প্রথম প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ১৭ লাখ ২৪ হাজার ৪৭০ জন দিনমজুর, পরিবহন শ্রমিক, নৌপরিবহন শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সহায়তা পাবেন। এর মধ্যে দিনমজুরের সংখ্যা ১৪ লাখ ৩৭ হাজার ৩৮৯, পরিবহন শ্রমিক দুই লাখ ৩৫ হাজার ৩৩, নৌপরিবহন শ্রমিক এক হাজার ৬০৩ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ৫০ হাজার ৪৪৫ জন। প্যাকেজের আওতায় জনপ্রতি দুই হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। তাঁদের সহায়তার জন্য ৪৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত অর্থবছরে কর্মহীন, অতিদরিদ্র মানুষকে সহায়তা দিতে সারা দেশে তালিকা করে ৩৫ লাখ পরিবারকে দুই হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়। এতে সরকারের ব্যয় হয় ৮৭৫ কোটি টাকা।

দ্বিতীয় প্যাকেজের আওতায় শহর এলাকায় নিম্ন আয়ের জনসাধারণকে সহায়তা দিতে ৮১৩টি কেন্দ্রে বিশেষ ওএমএস (খোলাবাজারে বিক্রি) কার্যক্রম পরিচালনা করবে সরকার। আগামী ২৫ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত ১৪ দিন সারা দেশে এই বিশেষ ওএমএস কার্যক্রম চলবে। এতে ২০ হাজার মেট্রিক টন চাল ও ১৪ হাজার মেট্রিক টন আটা বিতরণ করা হবে। এ জন্য ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকছে।

তৃতীয় প্যাকেজের আওতায় ‘৩৩৩’ নম্বর হেল্পলাইনে জনসাধারণের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে ১০০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ থাকছে। সত্যিকারের ক্ষতিগ্রস্ত যে কেউ ‘৩৩৩’ নম্বরে ফোন করে খাদ্য সহায়তা নিতে পারবে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় খাদ্য পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন।

চতুর্থ প্যাকেজের আওতায় গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থানে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) মাধ্যমে ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে। উপকারভোগীরা এসব ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে ঋণ পাবেন। এ জন্য প্রণোদনা প্যাকেজে এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

গত অর্থবছরে কৃষি ও কৃষিসংশ্লিষ্ট উৎপাদন ও সেবা, ক্ষুদ্র ব্যবসা, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প খাতে দরিদ্র কৃষক, বিদেশফেরত প্রবাসী শ্রমিক এবং প্রশিক্ষিত তরুণ বেকার যুবকদের জন্য সরকার ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দিয়েছিল। বাজেটে প্রথমে দুই হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের কথা বলা হয়। পরে তা বাড়িয়ে তিন হাজার ২০০ কোটি করা হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

নতুন করে ঘোষণা করা এই প্যাকেজে প্রবাসী শ্রমিকরা বাদ পড়েছেন। কারণ অনেক প্রবাসী শ্রমিকই বিদেশে ফিরে যেতে পেরেছেন।

পঞ্চম প্যাকেজের আওতায় পর্যটন খাতের হোটেল/মোটেল/থিম পার্কের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে ব্যাংকব্যবস্থার মাধ্যমে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে এক হাজার কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হবে। এর সুদহার হবে ৪ শতাংশ।

গত অর্থবছরে তৈরি পোশাকসহ রপ্তানিমুখী খাতের ৫০ লাখ শ্রমিকের বেতন-ভাতা দেওয়ার জন্য সরকার পাঁচ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দিয়েছিল। এবার পর্যটন খাত প্রায় একই ধরনের সুবিধা পাবে।

 

এমন আরো সংবাদ

Back to top button