মেঝেতে স্ত্রীর লাশ, মুমূর্ষু স্বামী বিছানায়

করোনায় মারা যাওয়া শাহনাজ বেগমের লাশ ও করোনা আক্রান্ত তার মুমূর্ষু স্বামী শাহ আলম ভূঁইয়াকে গতকাল সকাল ১০টায় একসঙ্গে উদ্ধার করলেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা শাহনাজ। ঘটনাটি চাঁদপুর শহরের ট্রাংক রোড এলাকার খানবাড়ি এলাকার।

ওই দম্পতি কয়েক দিন ধরে করোনা পজিটিভ হয়ে বাড়িতেই আইসোলেশনে ছিলেন। তাদের তিন সন্তানই থাকেন বিদেশে। স্থানীয় সূত্র জানায়, করোনায় আক্রান্ত শাহনাজ মরে পড়ে ছিলেন ঘরে। আর করোনায় আক্রান্ত শাহ আলম মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে ছিলেন বিছানায়। কাছে কোনো আত্মীয় না থাকায় ঘটনা কেউই জানতে পারেননি। করোনায় আক্রান্ত পরিবার বলে প্রতিবেশীরাও এড়িয়ে চলছিলেন বাড়িটি। গতকাল সকালে তাদের এক প্রতিবেশীর ফোন পেয়ে তাদের উদ্ধার করে ইউএনও শাহনাজের লাশ দাফনেরও ব্যবস্থা করেন। আর শাহ আলমকে হাসপাতালে ভর্তি করান।

ইউএনও সানজিদা শাহনাজ জানান, সকাল ১০টার দিকে শাহ আলম নামের একজন মুঠোফোনে ঘটনাটি জানান। শাহ আলম ওই দম্পতির প্রতিবেশী। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে গিয়ে তাদের উদ্ধারের জন্য অ্যাম্বুলেন্স জোগাড়ের চেষ্টা করেন। কিন্তু কোথাও অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকে দুলাল পাটোয়ারীর সহায়তায় আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামের একটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে লাশটি স্বজনদের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। এতে ইসলামী আন্দোলনের স্বেচ্ছাসেবীরা সহায়তা করেন। আর করোনায় অসুস্থ শাহ আলমকে ২৫০ শয্যা চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তির ব্যবস্থা করেন।

প্রতিবেশী শাহ আলম জানান, ‘করোনায় আক্রান্ত ওই দম্পতির দুই ছেলে ও এক মেয়ে। দুই ছেলে দুবাই ও মেয়ে ইতালি থাকেন। শাহ আলম ভূঁইয়া নিজেও দীর্ঘদিন দুবাই প্রবাসী ছিলেন। ২০০৭ সালে তিনি দেশে ফিরে আসেন। কোনো নিকটাত্মীয় পাশে না থাকায় ওই দম্পতির এ অবস্থা কেউ জানতে পারেননি। আমি সাহস করে তাদের ঘরে গিয়ে এ অবস্থা দেখে সঙ্গে সঙ্গে সদরের ইউএনওকে খবর দেই।

 

এমন আরো সংবাদ

Back to top button