ওরে ছেলেরা… আহা রে বাবা!

নিজে না খেয়েও সন্তানদের খাওয়ানোর চেষ্টা করেছেন বাবা। পরম স্নেহ, মমতায় ছেলেমেয়েদের আগলে রেখেছেন সারাজীবন। ছেলেরা সবাই আজ প্রতিষ্ঠিত। প্রত্যেকেরই আছে দালান, পাকা বাড়ি। কিন্তু জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসে সেই বাবাই আজ সবচেয়ে ‘অপ্রয়োজনীয়’। অসুস্থ, অসহায় মানুষটি যেন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে সন্তানদের কাছে। তাই তো কোনো ছেলের ঘরেই একটু ঠাঁই পেলেন না বৃদ্ধ শফিকুল ইসলাম।

লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেঘনা রোডের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম (৯৫)। অসুস্থ এই বৃদ্ধকে ঘরের বাইরে উঠানে ফেলে রাখেন তার ছেলেরা। শুক্রবার সকাল থেকে সন্তানের ঘরের সামনে পড়ে থাকতে দেখা যায় তাকে। পরে স্থানীয়রা প্রশাসনকে অবহিত করলে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। কিন্তু তাতেও মন গলানো যায়নি পাষাণদের।

স্থানীয়রা জানায়, অসুস্থ শফিকুলের চার ছেলে ও তিন মেয়ে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছেন। দুই বছর আগে তিনি সন্তানদের সম্পত্তি ভাগ করে দেন। তার এক ছেলে বিজিবিতে চাকরি করেন, আরেক ছেলে সেনাবাহিনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত। একজন মারা গেছেন। অন্যজন প্রবাসী। সব ছেলেই প্রতিষ্ঠিত। লক্ষ্মীপুর পৌর এলাকায় সবারই বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। তার পরও বাবার পরিচর্যা করতে অপারগতা প্রকাশ করে বাড়ির বাইরে উঠানে ফেলে রাখেন ছেলেরা। পরে স্থানীয়রা প্রশাসনকে খবর দিলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাসেল ইকবাল ও মো. রাজীব হোসেন ঘটনাস্থলে যান এবং বিষয়টি বিস্তারিত শুনে ছেলের দায়িত্ব নিতে বলেন। তারা কেউ বাবাকে নিতে রাজি না হওয়ায় অসুস্থ শফিকুলের বড় মেয়ে সুরাইয়া তার বাবাকে নিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি করে অসুস্থ শফিকুলকে মেয়ে সুরাইয়ার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাসেল ইকবাল বলেন, বৃদ্ধ লোকটি অসুস্থ হওয়ায় কোনো ছেলে রাখতে চাচ্ছে না। তাই তারা বাড়ির বাইরে ফেলে রেখেছে। পরে বৃদ্ধের এক মেয়ে এসে তাকে নিতে ইচ্ছা পোষণ করেন। আমরা আমাদের ব্যবস্থাপনায় ওই বৃদ্ধকে মেয়ের বাড়ি দিয়ে আসি।

 

এমন আরো সংবাদ

Check Also
Close
Back to top button