হাসপাতালগুলোয় আগের দ্বিগুণ অক্সিজেন লাগছে

চট্টগ্রামে শনাক্তের নতুন রেকর্ড

পটিয়ার বড় উঠান এলাকার বাসিন্দা রইচ উদ্দিন তার বাবা শমি উদ্দিনকে (৫৮) শ্বাস নিতে সমস্যা হওয়ায় একদিন আগে ভর্তি করান চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে। প্রথম দিকে তার বাবার তীব্র শ্বাসকষ্ট ছিল না। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে ডাক্তাররা বলেছেন, অক্সিজেন দিতে হবে। কিন্তু চমেক হাসপাতালে কোথাও আইসিইউ শয্যা খালি নেই। তিনি চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে দেখেন সেখানেও আইসিইউ শয্যা খালি নেই। উপায় না দেখে তিনি একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যান তার বাবাকে। এ সংকটে শুধু রইচ উদ্দিনের বাবার নন। তার মতো অসুস্থদের নিয়ে স্বজনরা অক্সিজেন ও আইসিইউ শয্যা খালি না পেয়ে এই হাসপাতাল থেকে ওই হাসপাতালে ছুটছেন।

এদিকে চট্টগ্রামের করোনা পরিস্থিতি প্রতিদিনই খারাপের দিকে যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে করোনার আগের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে। ২ হাজার ১০০টি পরীক্ষা করে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৭৮৩ জন। মারা গেছেন ১০ জন। তাদের মধ্যে উপজেলার বাসিন্দা আটজন। বাকি দুজন নগরীর। এর আগে শনাক্ত হয়েছিল ৭১৩ জন। মারা যান নয়জন। গত ৭ জুলাই শনাক্ত হয় ৬১১ জন। মারা যান চারজন। ৬ জুলাই শনাক্ত হয় ৬৬২ জন, মারা যান নয়জন। মূলত প্রতিদিনই পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, চট্টগ্রামের বেশিরভাগ হাসপাতালেই মেডিক্যাল গ্রেডের অক্সিজেন সরবরাহ করে তিনটি প্রতিষ্ঠান। এ তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো- নগরীর সাগরিকায় সরকারি-বেসরকারি যৌথ মালিকানার বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান লিন্ডে বাংলাদেশ লিমিটেড, নগরীর কালুরঘাটের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্পেকট্রা অক্সিজেন লিমিটেড ও নারায়ণগঞ্জভিত্তিক ইসলাম অক্সিজেন লিমিটেড।

চট্টগ্রামে ১৫ দিন আগেও সাত টন অক্সিজেন দিয়ে চালানো যেত তিন থেকে চার দিন। এখন সেটি দুদিনও যাচ্ছে না। আগে হাসপাতালগুলোয় অক্সিজেন সিলিন্ডার লাগত ২০০টি। এখন প্রয়োজন হচ্ছে ৩৫০টির। দিন যত যাচ্ছে, ততই অক্সিজেনের প্রয়োজন বেশি হচ্ছে।

জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আবদুর রব বলেন, জেনারেল হাসপাতালে আগে দৈনিক দেড় হাজার লিটার অক্সিজেন লাগত। এখন প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজার লিটার অক্সিজেন প্রয়োজন হচ্ছে। অনেক সময় আরও বেশি লাগছে।

চট্টগ্রামে করোনা পরিস্থিতি যতই খারাপ হচ্ছে, হাসপাতালগুলোয় শয্যা সংখ্যারও সংকট দেখা দিচ্ছে। চট্টগ্রামের কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড চমেক হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতালসহ আরও আটটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল মিলে শয্যা আছে সাড়ে ৭০০। এর মধ্যে এখন রোগী ভর্তি আছেন ৮০০-এর বেশি। আইসিইউ শয্যা আছে সব মিলিয়ে ৮৮টি। এখন সব কয়টি আইসিইউ শয্যায় রোগী ভর্তি।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম হুমায়ন কবীর বলেন, এখন প্রতিদিনই করোনা রোগী বাড়ছে। সাধারণ শয্যার পাশাপাশি এইচডিইউ ও আইসিইউতেও চাপ রয়েছে। সাধারণ শয্যা ৩০০ পর্যন্ত উন্নীত করা গেলেও আইসিইউ শয্যা বাড়ানো সম্ভব হবে না। তবু আমরা চেষ্টা করছি আইসিইউ শয্যা বাড়ানোর জন্য।

 

এমন আরো সংবাদ

Back to top button