পুলিশ কর্মকর্তার বাড়ি থেকে পালাল গৃহকর্মী, রাস্তায় ধরে পেটালেন স্ত্রী

বরিশালে প্রকাশ্যে ১২ বছর বয়সী এক গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মিজানুর রহমানের স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ সময় বাধা দিতে গেলে ওই কর্মকর্তার ছেলেও স্থানীয়দের সঙ্গে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর চৌমাথা বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে কোতোয়ালি থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে।

ওই গৃহকর্মী জানায়, গত ছয় দিন ধরে সে পুলিশের ওই কর্মকর্তার বাসায় কাজ করছে। এই সময়ে তাকে অনেকবারই বকাঝকা করা হয়েছে। পরে বৃহস্পতিবার বাসা থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে সে। এ সময় নগরীর চৌমাথা এলাকায় পৌঁছালে তাকে ধরে মারধর করেন মিজানুর রহমানের স্ত্রী ও ছেলে।

অভিযুক্ত পুলিশ পরিদর্শকের স্ত্রী (বায়ে)।

প্রত্যক্ষদর্শী চৌমাথা বাজারের ফল ব্যবসায়ী আলম সিকদার বলেন, ‘মেয়েটি চৌমাথা বাজারের সামনের রাস্তা পার হওয়ার সময় এক নারী ও তার ছেলে শিশুটিকে ধরে সড়কের পাশে এনে মারধর শুরু করে। শিশুটি এ সময় বলতে থাকে, ‘‘মুই আমনেগো লগে যামু না, ওই বাসায় মইরা গেলেও যামু না’’।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাস্থলে আশপাশের লোকজন জড়ো হয় এবং শিশুটিকে মারার কারণ জানতে চাইলে মারধরকারী ওই নারী ও তার ছেলেকে উপস্থিত লোকজনকে গালাগাল করে।’

অভিযোগের বিষয়ে জেলা ডিবির পরিদর্শক মিজানুর রহমান বলেন, ‘তিন দিন আগে শিশুটিকে তার মা-বাবা আমাদের বাসায় রেখে যান। আমার স্ত্রী অসুস্থ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সে ডাক্তারকে রিপোর্ট দেখানোর জন্য বাইরে বের হয়। এই সুযোগে শিশুটি বাইরে বের হয়ে যায়।’

১২ বছরের শিশুকে আপনার বাসায় কেন রেখেছেন-এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘শিশুটি অসহায় হওয়ায় তার মা আমার বাসায় দিয়ে গেছে। আমার সন্তানদের সঙ্গী হিসেবে থাকত শিশুটি। তাকে গৃহকর্মী হিসেবে রাখা হয়নি।’

পুলিশ হেফাজতে ভুক্তভোগী শিশু।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম বলেন, ‘শিশুটির সঙ্গে কথা বলেছি। ছয় দিন আগে সে ওই বাসায় কাজ শুরু করেছে। সেখানে বকাঝকা করায় মেয়েটি ক্ষুব্ধ হয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। ওই বাসার লোকজন খুঁজতে বেড়িয়ে শিশুটিকে পেলে তারা বাসায় নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু মেয়েটি না যেতে চাইলে টানাহেঁচড়া হয়।’

মেয়েটিকে উদ্ধার করে বর্তমানে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। তার পরিবার এসে লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি নুরুল ইসলাম।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ‘যেহেতু শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে, সেহেতু শিশুটিকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। ভিকটিমের জবানবন্দি ও মা-বাবার অভিযোগ সবকিছু শুনেই ঘটনার তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এমন আরো সংবাদ

Back to top button