কুষ্টিয়ায় এক দিনে আরও ১৭ জনের মৃত্যু

কুষ্টিয়ায় গতকাল বুধবার সকাল ৮টা থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন করোনায় এবং ৭ জন উপসর্গে মারা গেছেন।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তাপস কুমার সরকার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে ৭৪৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৩২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ২২ শতাংশ।

এখন পর্যন্ত জেলায় ৬৮ হাজার ৮৯৬ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে ৬৫ হাজার ৯০২ জনের। মোট শনাক্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৬৬৪ জন। মৃত্যু হয়েছে ২৮৬ জনের। আর সুস্থ হয়েছেন ৬ হাজার ১৫৭ জন।

বর্তমানে কুষ্টিয়ায় সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ২২১ জন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ২৬৫ জন ও হোম আইসোলেশনে আছেন দুই হাজার ৯৫৬ জন।

আরএমও তাপস কুমার সরকার বলেন, ‘অধিকাংশ রোগীকে অক্সিজেন দেওয়ার দরকার হচ্ছে। রোগীর সংখ্যা বাড়ায় অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে কাড়াকাড়ি লেগে যাচ্ছে। অনেকেই ৪০ থেকে ৭০ ভাগ অক্সিজেন স্যাচুরেশন নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন। তাদের অবস্থা জটিল। তাদের কমপক্ষে এক সপ্তাহের জ্বর, ঠান্ডা, কাশি আছে। আর অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে যাওয়ার পর যেসব রোগী আসছেন, তাদের বাঁচানো কঠিন হচ্ছে। এজন্য আগেভাগে চিকিৎসা সেবা নিতে হবে।’

ডা. তাপস কুমার সরকার আরও জানান, প্রতিদিন অন্তত ৫০০ অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রয়োজন হচ্ছে। এ ছাড়া ছয় হাজার লিটারের সেন্ট্রাল অক্সিজেন রয়েছে। অক্সিজেনের কোনো সংকট নেই।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এম এ মোমেন বলেন, ‘২৫০ বেডের করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালটিতে এখন শয্যার চেয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। করোনা আক্রান্ত এবং উপসর্গ নিয়ে বৃহস্পতিবারবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ৩০০ রোগী চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাই প্রায় ২০০ জন। উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ১০০ জন। এখন পর্যন্ত চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট নেই। তবে শয্যা, নার্স, আয়া ও সুইপারের অভাব রয়েছে।’

 

এমন আরো সংবাদ

Back to top button