স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় তিন দাবি নিয়ে বাবুনগরী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন হেফাজতে ইসলামের আমির জুনাইদ বাবুনগরী। গতকাল সোমবার রাত পৌনে ৯টার দিকে একটি গাড়িতে চড়ে বাবুনগরীকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ধানমন্ডির বাড়িতে ঢুকতে দেখা যায়। রাত পৌনে ১১টার দিকে তিনি একই গাড়িতে বেরিয়ে আসেন। এ সময় বাবুনগরীর সঙ্গে হেফাজতের মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদী ও সংগঠনের প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা আমির শাহ আহমদ শফীর একান্ত সহকারী শফিউল আলমও ছিলেন। এর আগে চট্টগ্রাম থেকে সোমবার সকালে ঢাকায় আসেন জুনায়েদ বাবুনগরী। এরপর বারডেম হাসপাতালে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় প্রবেশ ও বেরুনোর সময় সাংবাদিকরা বাবুনগরী ও তার সঙ্গীদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে সবাই এড়িয়ে যান। কী কারণে বাবুনগরী ও নুরুল ইসলাম জিহাদী এই লকডাউনের মধ্যে দেখা করতে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তরফেও কোনো কিছু বলা হয়নি। এমনকি বৈঠকের সময় মন্ত্রীর বাসায় উপস্থিত থাকা পুলিশের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও এ বিষয়ে কোনো কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। আমাদের সময়কে তিনি কেবল বলেন, ‘বৈঠকের বিষয়ে পরে জানা যাবে।’
হেফাজত সূত্রে অবশ্য জানা গেছে, বৈঠকে সারাদেশে সংগঠনের গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের মুক্তি এবং করোনা নিয়ন্ত্রণে কঠোর বিধিনিষেধ শেষে কওমি মাদ্রাসাগুলো খুলে দেওয়ার ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহযোগিতা চান হেফাজত আমির। এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কওমি মাদ্রাসাগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনা এবং মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রমের ব্যাপারে সমন্বিত নীতিমালা তৈরির উদ্যোগের বিষয়েও কথা বলেন তিনি। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল হেফজত নেতাদের আশ্বাস দেন, করোনা পস্থপর্যালোচনা করে মাদ্রাসা খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। আর নির্দোষ কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না।
এর আগে গত ৪ মে নুরুল ইসলাম জিহাদীর নেতৃত্বে হেফাজতের নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। পুলিশের গ্রেপ্তার অভিযানের মধ্যে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠনটির আগের কমিটি ভেঙে বিতর্কিত কয়েকজনকে বাদ দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। তাতেও বাবুনগরীই আমির পদে থাকেন। হেফাজতের নতুন কমিটি গঠনের পর গত রাতেই ছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বাবুনগরীর প্রথম বৈঠক।

 

এমন আরো সংবাদ

Back to top button