তবু লাভের আশায় বুক বেঁধেছেন খামারিরা

কোরবানির জন্য মুন্সীগঞ্জের গরুর সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। রাজধানীর উপকণ্ঠের এই জেলায় গরু লালন পালনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন খামারিরা। শেষ সময়ে দিনরাত যতœ নিচ্ছেন। এ দিকে দেশে আবারও করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গরু বিক্রিতে কাক্সিক্ষত দাম পাবেন কিনা- তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন খামারিরা। তারপরও লাভের আশায় বুক বেঁধে আছেন তারা।

সরেজমিনে মুন্সীগঞ্জ সদরের মিরকাদিম পৌরসভার বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, খামারে খামারে ৮ থেকে ১০ জন করে শ্রমিক প্রতিনিয়ত কাজ করছেন গরুর লালন পালনে। সদরের এ পৌরসভার বিভিন্ন খামারে নেপালি, ম-ি, হাঁসা, পশ্চিমা ও সিন্ধি জাতের গরুর আধিক্য দেখতে পাওয়া যায়।

এ দিকে একমাত্র আফসা গরু মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিমেই পাওয়া যায়। যেটা দেশের অন্য কোন জেলায় পাওয়া যায় না বলে এখানকার খামারিদের দাবি। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে এবারও গরুর ক্রেতারা আগ্রহী কেমন হবেন এটাই দেখার বিষয়। গত বছর গরু পালন করে হাটে তুলানামূলক ক্রেতা কম থাকায় অনেক খামারিকে লোকসান গুনতে হয়েছে।

হাজী মোস্তফা এগ্রোর মালিক ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা বলেন- আমার খামারে ৬৬টির ওপর উন্নত জাতের গরু আছে। যার মধ্যে ধবল গরু আছে ২৫টি। সম্পূর্ণ দেশীয় নির্ভেজাল খাবার খাওয়ানো হয় গরুগুলোকে। কৃত্রিম উপায়ে নয়; বরং সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার ব্যবহার করে গরু মোটাতাজা করছি। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গরু পরিচর্যায় ব্যস্ত শ্রমিকরা। ধানের বিচালী, কাঁচা ঘাস, খৈল, গমের ভুষি, চালের কুড়াসহ প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে গরু মোাটাতাজা করছি। প্রতিদিন ১০জন শ্রমিক কাজ করছে এগ্রোতে। তিনি বলেন- আমার নিজের কারখানার খৈল, গমের ভুষি, চালের কুড়াসহ সকল গোখাদ্য তৈরি করি। এগুলোও এখানকার গরুকে খাওয়ানো হয়।

মিরকাদিম এগ্রোর মালিক মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, অনেক দিন এ পেশা থেকে সরে ছিলাম। গত দুই বছর ধরে আবার নিয়মিতভাবে গরু পালন করছি। আমার খামারে চার ধরনের গরু আছে- সাদা গরিয়ান, মিরকাদিমের গাভী সাদা ও সাইওয়াল লাল। করোনার প্রভাবে গত বছর আমাদের লোকসান গুনতে হয়েছে। এবারও করোনার প্রভাব বেশি। জানি না কী হয়? যদি ইন্ডিয়া থেকে গরু না আসে তা হলে আমাদের লোকসান গুনতে হবে না। গোখাদ্যের যে পরিমাণ দাম এতে গরু লালন পালন শেষে কিছুই থাকছে না। আমার খামারে নিয়মিত ৮জন লোক কাজ করছে।

ইমন বেপারী নামে আরেক খামারি বলেন, করোনার কারণে গরু বিক্রি নিয়ে অতঙ্কে রয়েছি। ঈদ পর্যন্ত লকডাউন দেওয়া হলে আমাদের অনেক সমস্যা হবে। আমার খামারে ৭০টির বেশি বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে। আমরা দুই ভাই মিলে গরু পরিচর্যা করি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন, ঈদ সামনে রেখে লকডাউন শিথিল করে দিবেন। না হলে এবারও লোকসান গুনলে আমরা শেষ হয়ে যাব।

এমন আরো সংবাদ

Check Also
Close
Back to top button