পাপুলের আসনে জয় পেলেন নয়ন

কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই লক্ষীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন জয় লাভ করেছেন। তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৫৪৭টি। লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে তার নিকটতম প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ ফায়েজ উল্যা শিপন ১৮৮৬টি ভোট পেয়েছেন।

আজ সোমবার সকাল ৮টা থেকে ১৩৬ কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ ৮৪ কেন্দ্রে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয়।

সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি মাথায় নিয়ে রায়পুর উপজেলার পৌরসভাসহ ১০টি ইউনিয়নের ৭৩ কেন্দ্র ও সদর উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নে ৬৩ কেন্দ্রে ভোটাররা ভোট দান করেন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ আসনে লক্ষীপুর সদরের নয়টি ইউনিয়ন, রায়পুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। ইভিএমের মাধ্যমে ১৩৬টি ভোটকেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে ১৯ জন ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে পুলিশের পাশাপাশি ১০ প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাব-১১ নির্বাচনী এলাকায় মোতায়েন করা হয়। এ আসনে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৯৬৩ জন ভোটার ছিল।

আওয়ামী লীগের বিজয়ী প্রার্থী নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন বলেন, ‘সরকারের উন্নয়নে সুফলভোগী হওয়ায় ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে এসে ভোট দিয়েছেন। নৌকার পক্ষে ভোটারদের গণজোয়ার ছিল। অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার জন্য জনগণ নৌকায় ভোট দিয়েছে। ঘরে ঘরে গিয়ে আমাদের নেতাকর্মীরা ভোট চেয়েছিল।’

লক্ষীপুর -২ আসনের উপ-নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন বলেন, ‘সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের অধীনে আইন-শৃৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক টহলে ছিল। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ভোটারদের উপস্থিতি ভালো ছিল বলে সঠিকভাবে ভোটগ্রহণে প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারগণ কাজ করেছেন।

প্রসঙ্গত, কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল গত বছরের ৬ জুন কুয়েতে মানব ও অর্থপাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি ঘুষ কেলেংকারির ঘটনায় কুয়েতে পাপুলের ৪ বছর সাজা ও অর্থদণ্ড হয়। পরবর্তীতে পাপুলের ৪ বছর থেকে সাজা বাড়িয়ে ৭ বছর করেন আদালত। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২২ ফেব্রুয়ারি শূন্য হয় আসনটি। ৩ মার্চ তফসিল ঘোষণা করে ১১ এপ্রিল নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। করোনা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় ১ এপ্রিল নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে আবারও ২১ জুন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়।

 

এমন আরো সংবাদ

Back to top button