ড্রিংকসের বোতল সরিয়ে শাস্তি পাচ্ছেন না রোনালদো-পগবা

চলছে ইউরোপের সবচেয়ে জমজমাট ফুটবল আসর ইউরো। এবারের আসরে টুর্নামেন্টটির স্পন্সর হিসেবে আছে কোমল পানীয় প্রতিষ্ঠান কোকোকোলার ও বিয়ার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান হ্যানিকেন। ম্যাচের আগে ও পরে সংবাদ সম্মেলনে তাদের পণ্য টেবিলে রাখা হয়। কিন্তু হাঙ্গেরি ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে কোকোকোলার বোতল সরিয়ে পানি পানের আহ্বান জানাতে দেখা যায় রোনালদোকে। পরের দিন একই কাণ্ড করে হ্যানিকেনের বিয়ার বোতল সরান ফরাসি মিডফিল্ডার পল পগবা।

কোকোকোলা কাণ্ডের আধঘণ্টা পরই কোম্পানিটির শেয়ারের মূল্য ৪ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকা) ধস নামে। ক্রিস্টিয়ানোর এমন ঘটনায় কোম্পানিটি বিরাট ক্ষতির মুখে পড়েছে। যদিও পগবার ঘটনার পর হ্যানিকেন কোম্পানিকে কি পরিমাণ ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। তবে ক্ষতির মুখে তো অবশ্যই পড়তেই হচ্ছে ওই কোম্পানিকে।

রোনালদো ও পগবা কাণ্ডের কারণে দুই স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করা চুক্তির নিয়ম ভঙ্গ হয়েছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান উয়েফার। জানা গেছে, তাদের এমন কাণ্ডে বিশাল ক্ষতির মুখে পড়লেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি স্পন্সর প্রতিষ্ঠানগুলো। যার কারণে শাস্তির মুখে পড়তে হবে না তাদের।

তবে এই কাণ্ড যদি আমেরিকায় হতো তবে বড় ধরনের শাস্তি পেতে হতো রোনালদো-পগবাকে। স্প্যানিশ পত্রিকা মার্কার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া যায়। এমন কাণ্ডের পর বেশ কয়েকজন স্পোর্টস স্পন্সর বিশেষজ্ঞের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে পত্রিকাটি। এরপর সেখানে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য পাওয়া যায়।

এসপিএসজি কনসাল্টিংয়ের প্রধান নির্বাহী কার্লোস কান্তো মার্কাকে বলেন, ‘যদি ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে হতো, তাহলে এমন ঘটনা ঘটতো না। এনএফএল বা এনবিএতে এমন কিছু ঘটালে সেই খেলোয়াড়কে অবশ্যই শাস্তি পেতে হতো। কোনো খেলোয়াড় এমনটা করতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মকানুন খুবই শক্ত। এখানে তিনটা পক্ষ- কোকাকোলা, রোনালদো ও উয়েফা। আমি যদি কোকাকোলা কোম্পানি হতাম, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে উয়েফাকে বলতাম আমার ব্র্যান্ড ভ্যালু বাঁচানোর জন্য।’

সিএ স্পোর্টস মার্কেটিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা চিন্তো আরজাম বলেন, ‘রোনালদোর এমন কাজ করেও পার পেয়ে যাওয়ার ফলে অন্যান্য খেলোয়াড়রাও এতে উৎসাহী হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, স্পন্সর কোম্পানির প্রতি সকল খেলোয়াড়েরই একটা দায়িত্ব রয়েছে। যা যথাযথ পালন করা উচিত। এখানে ক্রিশ্চিয়ানো ব্যাপারে কোনো ব্যক্তিগত সমস্যা নেই। বিষয়টা হচ্ছে, এমন কিছু করে রোনালদো যদি পার পেয়ে যায়, তাহলে অ্যান্তনিও গ্রিজম্যান ও সার্জিও বুসকেটসরা কেন এমনটা করবে না?’

 

এমন আরো সংবাদ

Check Also
Close
Back to top button