‘এখনই অলিম্পিকে পদকের সম্ভাবনা না থাকলেও অচিরেই আসবে’

ক্রিকেট ফুটবলের পর বর্তমান দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় খেলা আর্চারি। এসএ গেমসসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আয়োজিত টুর্নামেন্টেগুলো বেশ কয়েকটি পদক জিতেছে বাংলাদেশের আর্চাররা। এরমধ্যে সবচেয়ে সফল রোমান সানা। যিনি বেশ কয়েকটি পদকের পাশাপাশি দু’বছর আগে নেদারল্যান্ডসে হুন্দাই বিশ্ব আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপে ব্যক্তিগত রিকার্ভে ব্রোঞ্জ জিতে সরাসরি টোকিও অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন।

জাপানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসন্ন অলিম্পিকে সম্ভাবনাময় এই আর্চারের পাশাপাশি আরও অনেকেই বিভিন্ন ইভেন্টে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছে। রোমান ছাড়া অন্যরা সবাই ওয়াইল্ডকার্ডে যাচ্ছেন। তবে আসন্ন অলিম্পিকে পদক অর্জনের মতো সক্ষমতা বাংলাদেশের এখনো তৈরি না হলেও খুব শিগগিরই বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই ক্রীড়াযজ্ঞে বাংলাদেশ ভালো ফল পেতে যাচ্ছে বলে মনে করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল।

সচিবালয়ের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে  এক সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘খেলোয়াড়রা অলিম্পিকের জন্য যাতে বেশি প্রস্তুতি নিতে পারে তাই সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স ও দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠিয়েছি। করোনা পরিস্থিতিতে অনেক দেশ এগুলো ইভেন্টে অংশ নিতে পারেনি, অথবা যেতে চায়নি। তবে আমরা চেষ্টা করেছি খেলোয়াড়দের সেরা সুযোগগুলো দিতে।’

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া ইভেন্টে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কতটুকু জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘সত্যি বলতে অলিম্পিক গেমসের মতো জায়গায় গোল্ড, সিলভার, ব্রোঞ্জ অর্জনের মতো সক্ষমতা আমাদের তৈরি হয়নি। তবে আমি আশাবাদী অচিরেই আমরাও ভালো ফল করতে পারবো। এ ছাড়া আর্চারদের ট্রেনিং ক্যাম্প কিন্তু বন্ধ থাকে না। শুধু ঈদের ছুটি ছাড়া সব সময় তারা ক্যাম্পেই থাকে। এমন ধারা অব্যাহত থাকলে টোকিও অলিম্পিকে না পারলেও আগামী আসরে ঠিকই ভালো ফল পাবো।’

টোকিও অলিম্পিকে সরাসরি যাচ্ছেন আর্চার রোমান সানা। সাঁতারে প্রতিনিধিত্ব করছেন আরিফুল ইসলাম ও জুনাইনা আহমেদ। শুটিংয়ে যাচ্ছেন আবদুল্লাহ হেল বাকী। ৪০০ মিটার ইভেন্টে অংশ নেওয়ার কথা জহির রায়হানের। তাদের সবাইকে নিয়ে আশা দেখছে বাংলাদেশ। মন্ত্রীও আশার কথা জানিয়ে বলেন, ‘সরাসরি যোগ্যতা অর্জন শুধু আর্চারির রোমান সানাই করতে পেরেছে। এছাড়া বাকি ডিসিপ্লিনে ওয়াইল্ডকার্ডে অংশ নিচ্ছে। আর্চারি ও শুটিং এই দুইটাতেই আমাদের ভরসার সুযোগ রয়েছে। আমরা আশা করি ভালো কিছু হবে।’

সদ্য সমাপ্ত আর্চারি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ফাইনালে খেলার যোগ্য অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। তবে নেদারল্যান্ডের কাছে হেরে সিলভার জিতেছে রোমান সানা ও দিয়া সিদ্দিকী জুটি। সফলতম এই খেলায়াড়দের কাছে প্রত্যাশার কথা জানিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আর্চারির ট্রেনিংয়ের জন্য আমরা স্পেশালাইজড ভেন্যু দিয়েছি। টঙ্গীর আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে দিন-রাত ট্রেনিং করার মতো ব্যবস্থা করে দিয়েছি। শুটিংয়ে যেমন অনেক ট্রেনিং করতে হয় আর্চারিতেও ঠিক তেমনই অবস্থা। আশা করি সামনে ভালো ফল পাবো।’

 

এমন আরো সংবাদ

Back to top button