ছদ্মনামে ভুয়া এলসি খুলে ৫২৫ কোটি টাকা পাচার

একটি বেসরকারি ব্যাংকে ৫২৫ কোটি টাকার এলসি করেছিলেন তিনি। এক্ষেত্রে অত্যাবশ্যক হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র, ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন), ট্রেড লাইসেন্স, শিল্প-কারখানার কাগজপত্র ইত্যাদিও করিয়েছেন। এলসির নথিপত্র অনুযায়ী তার নাম সুরুজ মিয়া। যদিও তার প্রকৃত নাম বিল্লাল হোসেন খান। শুধু তা-ই নয়; পরিচয়পত্র, টিআইএন, ট্রেড লাইসেন্সগুলোও ভুয়া, যা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে তৈরি করেছেন। উপরন্তু জাতীয় পরিচয়পত্রে তিনি যে নম্বরটি উল্লেখ করেছেন, সেটি কোনো পুরুষেরই নয়, নারীর।

আর এ সবের কল্যাণে পোলট্রি শিল্পের মেশিনারিজ আমদানির নামে মিথ্যা ঘোষণায় ৫৬টি মালবাহী কন্টেইনারে বিল্লাল আনেন মদ, সিগারেটের মতো বিদেশি কম দামের পণ্য। এভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন আন্তর্জাতিক অর্থ পাচারকারীচক্রের এ মূল হোতা। মঙ্গলবার সকালে তাকে রাজধানীর বনশ্রীর নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

 

অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, বিল্লাল হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর ধাপে ধাপে উঠে এসেছে জাল-জালিয়াতি, ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কীভাবে অর্থপাচার হয়েছে- এ সবের চাঞ্চল্যকর তথ্য। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বিল্লালকে। এর পর আদালত তোলা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুর রউফ আমাদের সময়কে বলেন, বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি চক্র চীনের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে মিথ্যা ঘোষণায় দুটি চালানে নিষিদ্ধ পণ্য আমদানি করে। একটি চালানে রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় ‘হেভ্রা ব্রাঙ্কো’ নামের প্রতিষ্ঠানের নামে ৩১টি কন্টেইনারে ২৯১ কোটি টাকার পণ্য মিথ্যা ঘোষণা এবং নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা নন্দলালপুরে ‘চায়না বিডিএল’ নামের প্রতিষ্ঠানের নামে একইভাবে ২৫টি কন্টেইনারে ২৩৪ কোটি টাকার অল্পমূল্যের পণ্য আমদানি হয়। এ দুটি প্রতিষ্ঠান ও আমদানিতে ব্যবহৃত সব ধরনের কাগজপত্র জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়। আমরা এলসি থেকে শুরু করে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে প্রতারণার বিষয়টি তদন্ত করছি।

এমন আরো সংবাদ

Back to top button