মমতার উন্নয়নবার্তায় আস্থা

পশ্চিমবঙ্গে মমতা-ম্যাজিক কমেনি এতটুকু। ২০১১ সালে পরিবর্তনের ভোটে ১৮৪টি আসনে জিতেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ৫ বছর পর ২০১৬ সালে জিতেছিল ২১১টি আসনে। এবার এ অবধি প্রবণতা যা বলছে, তাতে ২১৭টি আসন জিততে চলেছে তৃণমূল। এ ব্যাপক জয়ের পর হুইল চেয়ারে বসে থাকতে পারলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের পায়ে শুধু হেঁটেই এলেন তা নয়, সিঁড়ি ভেঙে উঠে কর্মীদের উদ্দেশে প্রতিক্রিয়াও জানালেন। নন্দীগ্রামে প্রচারে গিয়ে গত ১৭ মার্চ আহত হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পর এক মাসেরও বেশি সময় হুইল চেয়ারে বসেই চালিয়েছেন নির্বাচনী প্রচার।

বিজেপির কড়া হিন্দুত্ববাদ আর বিভাজনের রাজনীতির বিপরীতে অসাম্প্রদায়িকতা ও উন্নয়নকে সামনে রেখে বাজিমাত করলেন মমতা বন্দ্যোপাধায়। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে পশ্চিমবঙ্গে তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতার মসনদে বসতে যাচ্ছে দলটি। এবারের ফলে দেখা যাচ্ছে, বাংলার মানুষ সাম্প্রদায়িকতা ও সামাজিক বিদ্বেষের বিরোধিতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু সম্প্রদায় শুধু হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপিকে ভোট দেয়নি। যে রাজ্যে মোটামুটি ৭৫ শতাংশ হিন্দুর ভোট, সেখানে হিন্দু বাঙালি যদি বিজেপিকে ঢেলে ভোট দিত, যেমনটা তারা দিয়েছিল ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে, তবে নিঃসন্দেহে বিজেপি এ পর্যায়ে অনেকটাই এগিয়ে থাকত।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনকে দেখা হচ্ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তার একটি পরীক্ষা হিসেবে। একই সঙ্গে কোভিড-১৯ সংকটের মধ্যে তার সরকারের ব্যর্থতা ব্যালটবাক্সে কতখানি প্রভাব ফেলেছে, সেটিরও যাচাই ছিল এ নির্বাচন। নির্বাচনকালে জনসভা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে সমালোচিত হচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। তার জনসভাগুলোতে ছিল অসংখ্য মানুষ। পশ্চিমবঙ্গেও দেখা গেছে একই চিত্র। যদিও রাজ্যটিতে একই সময়ে কোভিডের রেকর্ড সংক্রমণ দেখা গেছে। ফলে সামনের দিনগুলোয় বড় রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার।

 

এমন আরো সংবাদ

Back to top button