ঘাটতি ছাড়াবে ২ লাখ কোটি টাকা

আগামী অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি রেকর্ড ২ লাখ কোটি টাকার বেশি ধরা হচ্ছে। বাজেট প্রণয়নের কাজটি প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। জিডিপির অংশ হিসেবে বাজেট ঘাটতি সাড়ে ৬ শতাংশ ছাড়িয়ে যাচ্ছে। অন্ততপক্ষে গত ১০ বছরের মধ্যে এত বিশাল পরিমাণ ঘাটতি নিয়ে বাজেট প্রণয়ন করা হয়নি বলে জানা গেছে। এর আগে সব সময় বাজেট ঘাটতি ‘প্রেস্টিজ নাম্বার’ হিসেবে বিবেচিত জিডিপির ৫ শতাংশের নিচে রাখার চেষ্টা করা হয়। খবর অর্থ বিভাগ সূত্রের।

জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে দুই লাখ ১২ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা। জিডিপি অংশ হিসেবে ঘাটতি ৬ দশমিক ১ শতাংশ; চলতি বছর বাজেট ঘাটতি ধরা হয় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে জিডিপির আকার ধরা হয়েছে ৩৪ লাখ ৮২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

‘এখন পর্যন্ত খাদ্য বাজেট এবং মোট কত টাকা ঋণ নিতে হবে তা চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি চূড়ান্ত করতে আরও কয়েক দিন লাগবে। মোট ঋণের পরিমাণ নির্ধারণ করা হলে বাজেটের আকার ৬ লাখ ১ হাজার ৫১১ কোটি টাকার মতো হতে পারে।

এত বিশাল অঙ্কের ঘাটতি কীভাবে পূরণ করা হবে- তারও একটি হিসাব কষে রেখেছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট প্রণয়নকারী ‘ঝানু’ আমলারা। খুব সহজ উপায় হিসেবে বাজেট ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা হবে ব্যাংকিং খাতের ওপর হাত রেখেই।

এই বাজেটের ২ লাখ কোটি টাকার বেশি যে ঘাটতি ধরা হয়েছে তার বেশিরভাগ অর্থই নেওয়া হবে ব্যাংকিং খাত থেকে। এ খাত থেকে প্রায় লাখ কোটি টাকার ঋণ নেওয়ার টার্গেট করা হয়েছে। কারণ এখন ব্যাংকিং খাতে তারল্য উদ্বৃত্ত। ব্যাংকের ঋণের সুদও কম। এর পাশাপাশি সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়া হবে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ বিদেশি ঋণ ও অনুদান হিসেবে পাওয়া যাবে।

জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটের প্রস্তাবিত আকার বছরে রাজস্ব খাতে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। রাজস্ব খাতে মোট আদায়ের হার জিডিপির প্রায় ১১ দশমিক ২ শতাংশ ধরে নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কর রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার ৭৮ কোটি টাকা। এটি মোট জিডিপির ৯ দশমিক ৫ শতাংশ।

সূত্র জানায়, আগামী অর্থবছরের বাজেটের সম্ভাব্য স্লোগান ঠিক করেছে অর্থ বিভাগ। এ ক্ষেত্রে চারটি স্লোগান ঠিক করেছে, প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর অনুমোদনের পর এখান থেকে একটি স্লোগান ঠিক করা হবে। এর মধ্যে ১ নম্বর স্লোগানে বলা হয়েছে- কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবিলা : জীবন-জীবিকা সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার। ২ নম্বর স্লোগানে বলা হয়েছে- কোভিড-১৯ মোকাবিলা : জীবন-জীবিকা সুরক্ষা ও অব্যাহত অর্থনৈতিক উন্নয়ন। তৃতীয় স্লোগানে বলা হয়েছে- কোভিড-১৯ ও বাংলাদেশ : জীবন-জীবিকা সুরক্ষা ও সুদৃঢ় অর্থনৈতিক উন্নয়ন। সর্বশেষ স্লোগান কোভিড-১৯ ও বাংলাদেশ : জীবন-জীবিকা সুরক্ষা ও অর্থনেতিক পুনরুদ্ধার। এর মধ্যে থেকে একটি সেøাগান আগামী অর্থবছরের জন্য ঠিক করা হবে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, সব বাজেটেই আকার বাড়ানো হয়, তবে বাস্তবায়ন কতটুকু হয়? আমাদের দেখতে হবে, গত বাজেটের বাস্তবায়ন কতটুকু হয়েছে। প্রত্যেকবারই উচ্চাভিলাষী বাজেট দেওয়া হয়। বাস্তবায়ন নিচের দিকে থাকে। এতে বাজেট প্রক্রিয়ার ওপর জনগণের আস্থাই নষ্ট হয়ে যায়।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, বাজেট ঘাটতি ৭ থেকে ৮ শতাংশ করলেও কোনো অসুবিধা হবে না। মানুষের হাতে ভালো টাকা নেই বলে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা নেই- এটা একদিক থেকে ভালো খবর। তবে চিন্তার বিষয় হচ্ছে বিনিয়োগ কমে যাওয়া। এই চ্যালেঞ্জ সরকার কীভাবে মোকাবিলা করবে, সেটাই এখন বড় বিষয়।

 

এমন আরো সংবাদ

Back to top button