অক্সিজেন সরবরাহে বাধা দিলেই ‘ফাঁসি’

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করতে গিয়ে ভয়াবহ পরিস্থির মুখোমুখি হয়েছে ভারত। দেশটিতে আক্রান্তের সাথে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। সেই সাথে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে অক্সিজেন সরবরাহে। অক্সিজেনের অভাবে অনেক মানুষের মৃত্যুর খবরও আসছে দেশটির গণমাধ্যমে।

অক্সিজেন সংকটে ভয়াবহভাবে ভুগছে ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লির বিভিন্ন বড়-ছোট হাসপাতাল। এ ক্ষেত্রে অক্সিজেন সরবরাহে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর জবাবে দিল্লি হাইকোর্ট বলেছেন, যদি কেউ অক্সিজেন সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করে তাহলে ‘আমরা তাকে ফাঁসি দেব’।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতে দিল্লি সরকার বলেছে, যদি রাজধানী দিল্লি ৪৮০ টন অক্সিজেন সরবরাহ না পায়, তাহলে পুরো ব্যবস্থা ধসে যাবে। বেশ কিছু হাসপাতাল এরই মধ্যে তাদের অক্সিজেন সঙ্কটের ভয়াবহতার কথা জানান দিয়েছে। পাঠিয়েছে এসওএস বার্তা।

অক্সিজেন সংকটের কারণে গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে দিল্লির জয়পুর গোল্ডেন হাসপাতালে কমপক্ষে ২৫ জন মানুষ মারা গেছেন। অন্যদিকে হাজার হাজার রোগী প্রতিদিন হাসপাতালে ছুটে যাচ্ছেন। ফলে কয়েকটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি হাইকোর্টে তুলে ধরেছে।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সরকার আদালতে বলেছেন- আমরা যদি ৪৮০ টন অক্সিজেন সরবরাহ না পাই তাহলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। এ অবস্থা আমরা ২৪ ঘন্টায় প্রত্যক্ষ করেছি। এমন হলে এক বিপর্যয় নেমে আসবে।

এর সঙ্গে উল্লেখ করা হয় যে, সরকার গতকাল শুক্রবার মাত্র ২৯৭ টন অক্সিজেন সরবরাহ পেয়েছে। অক্সিজেন সরবরাহ ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানতে চায় রাজ্য সরকার। এ সময় হাইকোর্টের বিচারক জানান, ‘আপনারা অক্সিজেন সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে এমন একজনের নাম বলুন। তাহলে আমরা ওই ব্যক্তিকে ফাঁসি দেব। কাউকে ছাড় দেব না আমরা।’

এদিকে মহারাজা আগ্রা সেন হাসপাতালের পিটিশনের ওপর শুনানিতে আদালত কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জানতে চান- ‘কখন ৪৮০ টন অক্সিজেন দেওয়া হবে দিল্লিকে? তা আমাদেরকে জানান।’

আজ শনিবারের এ শুনানিতে প্রথমদিকে দিল্লিতে ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টির (এএপি) সরকারকে দায়ী করার চেষ্টা করে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাজ্যগুলো ট্যাংকার থেকে সবকিছু ব্যবস্থাপনা করছে। আমরা শুধু তাদেরকে সহায়তা করছি। কিন্তু দিল্লিতে, সব কিছু আমাদের ওপর চাপানো হয়েছে। দিল্লির কর্মকর্তাদের তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

দিল্লি সরকারের আইনজীবী রাহুল মেহরা অভিযোগ করেন, অক্সিজেন বরাদ্দের নির্দেশনা অনুসরণ করছে না কেন্দ্রীয় সরকার। তার এ বক্তব্যের জবাবে সোলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, আমার দায়িত্ব সম্পর্কে আমি জানি। কিন্তু কিছুই বলব না। শুধু শুধু কাঁদার চেষ্টা করবেন না। এখানে আমরা নির্বাচনের লড়াই করছি না।

 

এমন আরো সংবাদ

Back to top button