হালদায় দেখা গেল মিষ্টি পাখি ‘লালপা পিউ’

পাখিটির নাম ‘লালপা পিউ’। ইংরেজিতে যাকে বলা হয় ‘কমন রেডশ্যাঙ্ক’ এবং বৈজ্ঞানিক নাম ‘ট্রিংগা টোটেনাস’। সম্প্রতি এক পড়ন্ত বিকেলে এমনি অতি সুলভদর্শন জলচর পাখি ‘লালপা পিউর’ দেখা মিললো দেশের অন্যতম মিঠা পানির প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র চট্টগ্রামের হালদা নদীর গড়দুয়ারা সোনাইর চর এলাকায়।

পাখিটির প্রজনন মৌসুম বসন্তকাল। ডিম পাড়ে ৩-৫টি। স্ত্রী-পুরুষ পালা করে ডিমে তা (তাপ) দেয়। ফুটতে সময় লাগে ২৩-২৫ দিন। প্রজননের আগ মুহূর্তে নিজেদের বসতভিটায় চলে যায়। ভাসমান জলদামের (জলজ তৃণবিশেষ) ওপর তারা বাসা বাঁধে। বাসা বানাতে উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে জলজ ঘাস ও লতাপাতা।

শীতকালে পরিযায়ী (বসবাসের জন্য অন্যদেশে গমনকারী) হয়ে বিভিন্ন দেশে যায়। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, দক্ষিণ চীন, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনে বেশি বিস্তৃতি ঘটে বলে জানালেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবের সমন্বয়কারী হালদা গবেষক ড. মঞ্জুরুল কিবরীয়া।

তিনি আরও জানান, শান্ত স্বভাবে এ পাখিগুলো কারও সঙ্গে গায়ে পড়ে ঝগড়াঝাটি করে না। চেহারা মায়াবী ধাঁচের। নজরকাড়া চোখের গড়নও। যদিও তারা শীত মৌসুমে দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় জলাশয় এলাকায় ছোট-বড় দলে শিকার খুঁজতে দেখা যায়। উপকূলীয় অঞ্চলে বেশি নজরে পড়ে। জোয়ার-ভাটার খাড়ির মুখে দাড়িয়ে খাবারের সন্ধান করে। এদের প্রধান খাবার ছোট মাছ ও জলজ পোকামাকড়।

‘লালপা পি-উ’ কণ্ঠস্বর বেশ চমৎকার। অনেকটা বাঁশির সুরের মতো আওয়াজ করে। ‘টিইউ-টিইউ-টিইউ’ সুরে ডেকে ওঠে। হঠাৎ শুনলে যে কেউ বাঁশির আওয়াজ বলে ভুল করে। বিশেষ করে নির্জনে সুর কানে এলে মন বিশাদে ভরে ওঠে। ভয় পেলে বা উড়তে উড়তে পিউ-পিউ সুরেও ডাকে। সুরে মুগ্ধ হয়ে দেশের বিশিষ্ট পাখিবিশারদরা এদের নাম দিয়েছেন ‘মোহন বেণু’।

 

এমন আরো সংবাদ

Check Also
Close
Back to top button