মুসা ম্যানসনের চিলেকোঠায় মিলল দুই লাশ

রাজধানীর পুরান ঢাকার আরমানিটোলার হাজী মুসা ম্যানসন থেকে আরও দুটি লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। ভবনের ৬ তলার চিলেকোঠা থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়। ফলে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় মৃত্যু হলো ৪ জনের। আহতদে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন ফায়ার সার্ভিস কর্মী আছেন।

ফায়ার সাভিস জানিয়েছে, নতুন করে উদ্ধার হওয়া দুটি মরদেহের মধ্যে একটি ভবনের নিরাপত্তাকর্মী ওলিউল্লাহ ব্যাপারির। আরেকজনের পরিচয় শনাক্ত হয়নি। এর আগে উদ্ধার হওয়া মরদেহ দুটির মধ্যে একটি ওই বাড়িতে ভাড়ায় বসবাসরত ইডেন মহিলা কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তারে। অন্যটি ভবনের দারোয়ান রাসেল মিয়ার।

জানা গেছে, সুমাইয়া তার পরিবারের সঙ্গে ভবনের চার তলায় থাকতেন। অচেতন অবস্থায় তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সুমাইয়ার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে ভর্তি করানো হয়েছে। দারোয়ান রাসেল মিয়ার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টা ১৮ মিনিটে আগুনের সুত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিটের চেষ্টায় আজ শুক্রবার ৭টা ১২ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

আগুন লাগা ও হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান। এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচলাক (ঢাকা মেট্রো) দেবাশীষ বর্ধন জানান, তারা নিলুফা নামে এক নারীকে ভবন থেকে উদ্ধারের পর ঢামেক হাসপাতালে পাঠান। তার প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল।

ঘটনার পর আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হলে ভোর পৌনে ৬টার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন পার্থ শংকর পাল জানান, এ পর্যন্ত ২১ জন এসেছে। তাদের সবার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। একজনকে আইসিইউতে পাঠানো হয়েছে, বাকিদেরকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার মাহফুজ রিবেন বলেন, আরমানিটোলায় একটি ছয়তলা আবাসিক ভবনের নিচতলায় আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট কাজ শুরু করে। এরপর আগুনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আরও তিনটি ইউনিট যুক্ত হয়। এর কিছুক্ষণ পর আরও চারটি ইউনিট যুক্ত হয়েছে। মোট ১৯টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে পুলিশ, র‍্যাব ও স্বেচ্ছাসেবীরা। প্রাথমিকভাবে আগুনের কারণ জানা যায়নি বলেও জানান তিনি।

জানা গেছে, হাজী মুসা ম্যানসনে দোতলা থেকে পাঁচতলা পর্যন্ত লোকজন বসবাস করে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টা ১৮ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত হলে ভবনের ছাদে কিছু লোক আটকা পড়ে। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দ হয়ে বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে বাসিন্দারা আটকে পড়েন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ভবনের পাশের এটিএম বুথের নিরাপত্তারক্ষী বজলুর রহমান জানান, ভবনের নিচতলা ও দোতলার মাঝামাঝি জায়গায় সামনের দিকে বিকট শব্দ হয়। সামনে এসে দেখেন আগুন ধরে গেছে। তখন তিনি ও আরেকজন মিলে এই ভবনের কলাপ্সিবল গেটের তালা ভেঙে একজনকে বাইরে নিয়ে আসেন। এরপর ভেতরের দিকেও আগুন ধরে যাওয়ায় তারা সেখান থেকে সরে আসেন।

ভবনটিতে ১৮টি পরিবার বসবাস করে। অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণে আশপাশের ভবন থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। আটকে পড়া অনেককেই মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। গ্রিল কেটে, গ্রিল ভেঙে, জানালা ভেঙে, ছাদের দরজা ভেঙে আটকে পড়াদের উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে হাজির হন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন। তিনি জানান, আগুনের কারণ সম্পর্কে এখনও জানা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি করা হবে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক।

 

এমন আরো সংবাদ

Back to top button