পরপর ৩ আঘাতে ধুঁকছে নিউজিল্যান্ড

নিউজিল্যান্ডের সামনে টার্গেট ২৭২। খালি চোখে খুব বড় স্কোর মনে না হলেও ক্রাইস্টচার্চের হাগলি ওভালে যদি আজ কিউইদের জিততে হয় তাহলে তা হবে রেকর্ড। অর্থাৎ এর আগে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড স্কটল্যান্ডের। ২০১৪ সালে কেনিয়ার করা ২৬০ রান টপকে জয় পেয়েছিল স্কটিশরা। ফলে আজ জিততে হলে এ মাঠের সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ড গড়তে হবে নিউজিল্যান্ডকে।

কিন্তু শুরুতেই যে হোঁচট খেল স্বাগতিকরা। ১১ ওভারে ৫৩ রান তুলতেই ৩ উইকেট নেই তাদের। তবে কি বোলিং এ ডানেডিনের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারবে বাংলাদেশ?

ব্যাটিং এ নেমে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি কিইউরা। মোস্তাফিজের করা ইনিংসের পঞ্চম ওভারের শেষ বলটি লেগসাইডে খেলতে গিয়ে ফিজের হাতেই তালুবন্দী হয়ে ফেরেন তিনি। আউট হওয়ার আগে ৩ চারের সঙ্গে ১ ছয়ে ২৪ বলে ২০ রান করেন গাপটিল।

এরপর নিকলসকে সঙ্গ দিতে ক্রিজে আসেন ডেভন কনওয়ে। কিন্তু ইনিংসের নবম ওভারে প্রথমবারের বোলিং আক্রমণে এসে নিকলসকে বিদায় করেন অফস্পিনার শেখ মেহেদি হাসান। নিজের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই তিনি সরাসরি বোল্ড করে দিয়েছেন বাঁহাতি ওপেনার হেনরি নিকলসকে।

নিজের পরের ওভারের পঞ্চম বলে উইল ইয়ংকেও সরাসরি বোল্ড করেছেন মেহেদি। মিডল স্ট্যাম্পে পিচ করা ডেলিভারি স্কুপ করতে গিয়ে নিজের উইকেট হারিয়েছেন ইয়ং। ৭ বলে মাত্র ১ রান করে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরে যান তিনি।

তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২৩ রানে ব্যাট করছেন ডেভন কনওয়ে এবং ৪ রানে অপর প্রান্তে আছেন লাথাম। আর দলের স্কোর ৭৩।

এর আগে ক্রাইস্টচার্চের সকালটায় ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ এক চার মেরে শুরু করেছিলেন তামিম ইকবাল। এরপরই লিটনের ছন্দপতন। তখন মনে হয়েছিল আবারও কি ডানেডিনের পুনরাবৃত্তি ঘটবে? তবে কথায় আছে, সকালের সূর্য সবসময় সঠিক বার্তা দেয় না। কখনো কখনো সময়ের সঙ্গে সবকিছু বদলায়। সেই বদলের চেহারা দেখিয়েছে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা। ৫০তম ওভারের শেষ বলে নিশামকে চার মেরে অপরাজিত থেকে যখন রানের খাতা বন্ধ করলেন মিঠুন; ততক্ষণে মিঠুনের ঝড়ে বাংলাদেশের স্কোর বোর্ডে ঝলমল করছে ২৭১ রানের ইনিংস। জিততে হলে কিউইদের করতে হবে ২৭২ রান।

ক্রাইস্টচার্চের শুরুটা দেখে মনে হয়েছিল এ যেন ডানেডিনের প্রায় কার্বন কপি। প্রথম ওয়ানডের মতোই টস ভাগ্য সহায় হয়নি তামিমের। দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও সফরকারীদের ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক। কিন্তু সে আমন্ত্রণের প্রতিদান দিতে পারেনি বাংলাদেশ। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলেই ফিরে যান লিটন দাস। ম্যাট হেনরিকে পুল করতে গিয়ে স্কয়ার লেগে উইল ইয়াংয়ের হাতে ধরা পড়ে ফেরেন এ ওপেনার।

শুরুর এ ধাক্কা সামলে উঠেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল। ওয়ান ডাউনে নামা সৌম্য সরকারকে নিয়ে গড়ে তুলেন ৮০ রানের জুটি। খোলসেবন্দি সৌম্য সরকারকে নিয়ে অপর প্রান্তে তামিম সাবলীল ব্যাট করতে থাকেন তামিম। কিন্তু ৪৬ বলে ৩২ রান করে মিচেল স্যান্টনারের বলে ল্যাথামের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সৌম্য সরকার। তিনি যখন সাজঘরে ফিরেন দলের রান তখন ২০ ওভার শেষে ৮৪। এরপর তামিম-মুশফিক কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও তারাও ফিরে যান।

প্রথম ওয়ানডের দিনে জন্মদিনকে সেভাবে রাঙাতে না পারলেও আজ তামিম ইকবালের ব্যাট কথা বলেছে। সেই ব্যাটে ভর করেই তামিম তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের পঞ্চাশতম ওয়ানডে ফিফটি। কিন্তু কে জানত নিশামেই পায়ের দক্ষতায় সাজঘরে ফিরবেন তিনি!

নিশামের করা বল স্ট্রাইক প্রান্তে রেখেই দৌড় দিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। তাতে সাড়া দিয়েছিলেন তামিমও। কিন্তু স্ট্রাইক প্রান্তে যাওয়ার আগেই ক্রিকেট বলকে ফুটবলের মতো শট দিয়ে স্ট্যাম্প ভেঙে দিলেন কিউই অলরাউন্ডার। ফলে রানের গতি বাড়িয়েও ৭৮ রানেই থামতে হয় টাইগার অধিনায়ককে। এরপর ক্রিজে আসেন মিঠুন। শুরু থেকেই হাত খুলে খেলতে থাকেন তিনি। অর্থাৎ তামিম যেখান থেকে শেষ করেছেন, তিনি ঠিক সেখান থেকেই শুরু করলেন। অবশ্য এরপর খুব বেশি সময় টিকেতে পারেননি মুশফিকুর রহিম। ৫৯ বলে ৩৪ রান করে স্যান্টনারের বলে নিকলস এর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল।

কিন্তু খেই না হারিয়ে মাহমুদুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে দুর্দান্ত এক ফিফটি হাঁকান মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিঠুন। জাতীয় দলের এই ব্যাটসম্যানের ব্যাট বেশ কিছুদিন ধরে কথা বলছিল না। এবার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জ্বলে উঠল। ক্রাইস্টচার্চে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৪৪.৬ ওভারে জিমি নিশামকে ছক্কা হাঁকিয়ে ৪৪ বলে ক্যারিয়ারের পঞ্চম অর্ধশতক তুলে নিলেন মিঠুন।

কিন্তু আশানুরূপ খেলতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। মিঠুনের ফিফটির কিছু পর আউট হয়ে যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ১৮ বলে ১৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। কিন্তু ছন্দ হারাননি মিঠুন। অধিনায়ক তামিমের পর মিঠুনের ফিফটিতে ভর করে লড়াকু পুঁজি গড়ে বাংলাদেশ। শেষপর্যন্ত ৬ চারের সঙ্গে ২ ছয়ের মারে ৫৭ বলে ৭৩ রান করে অপরাজিত থাকেন মিঠুন।

নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ২ উইকেট নিয়েছেন মিচেল স্যান্টনার। এ ছাড়া ম্যাট হেনরি, ট্রেন্ট বোল্ট ও কাইল জেমিসন নিয়েছেন ১টি করে উইকেট।

এর আগে সাজঘরে ফেরার আগে অবশ্য রেকডের খাতায় নিজের নাম তুলে ফেলেছেন তামিম। আজকের করা ফিফটির মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশি হিসেবে সর্বোচ্চ ৫০ রানের বেশি ইনিংস খেলা ব্যাটসম্যানও হয়ে গেলেন তিনি। কিউইদের বিপক্ষে এটি তামিমের ষষ্ঠ অর্ধশত রানের ইনিংস। এত দিন ধরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫টি পঞ্চাশ রানের ইনিংস ছিল তামিম ও সাকিবের। আজ সাকিবকে ছাড়িয়ে গেলেন তামিম।

২১২ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তামিমের এটি ৬৩তম পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংস। এর মধ্যে ১৩টি রয়েছে সেঞ্চুরি। আর বাকি ৫০টি পঞ্চাশ রানের ইনিংস। সেঞ্চুরি কিংবা ফিফটির পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের আর কেউই তামিমের ওপরে নেই।

এমন আরো সংবাদ

Back to top button