একজনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও আরেকজন মৃত

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল গোলচত্বরে সাকাওয়াত এইস মেমোরিয়াল হাসপাতাল ও সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল থেকে চুরি যাওয়া দুই শিশুর মধ্যে একজনকে জীবিত ও অপরজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের আলোকদিয়া গ্রামের মৃত সোলায়মানের বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই দুই শিশুকে উদ্ধার করে। এসময় চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চোর চক্রের ৫ জন নারী ও ২ জন পুরুষ সদস্যকে আটক করে।

আটককৃতরা হলেন- উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের আলোকদিয়া গ্রামের মৃত সোলায়মান হোসেনের স্ত্রী সয়রন বিবি, তার মেয়ে আলপনা খাতুন, ছেলে রবিউল ইসলাম, রবিউলের স্ত্রী ময়না খাতুন, একই গ্রামের মৃত সাইফুল ইসলামের স্ত্রী মিনা খাতুন,একই গ্রামের রেজাউলের স্ত্রী খাদিজা খাতুন ও গ্রাম ডাক্তার শরিফুল ইসলাম।

এ বিষয়ে সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদের জিলানী জানান, গত শুক্রবার রাতে তাড়াশ উপজেলার নওগাঁর হান্ডিয়াল গ্রামের আসগর আলীর ছেলে মাজেদ আলী তার গর্ভবতী স্ত্রী সমিতা খাতুনকে নিয়ে হাটিকুমরুলের সাখাওয়াত এইস মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করান। গতকার শনিবার সকাল ৯ টার দিকে সিজারের মাধ্যমে পুত্র সন্তানের জন্ম দেন।

দুপুরের পর বোরকা পরিহিত এক নারী নার্স পরিচয় দিয়ে সমিতা ও তার স্বজনদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে। বিকেল ৩টার দিকে নার্স পরিচয়ধারী ওই নারী বাচ্চার নানীর কাছ থেকে বাচ্চাকে কান্না থামানোর কথা কোলে নেয়। এরপর হাটতে হাটতে হাসপাতালের বারান্দায় আসে এবং নানীকে ভেতরে চলে যেতে বলেন। শিশুটির নানী কেবিনের ভেতরে চলে যাওয়া মাত্র নার্স পরিচয়ধারী নারী বাচ্চাকে নিয়ে পালিয়ে যান।

ঘটনার পর পুলিশ এসে হাসপাতাল থেকে সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে। সেখানে দেখা যায়, এক নারী বাচ্চাটিকে কোলে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। পুলিশ ফুটেজে দেখা নারীকে শনাক্ত করে রাত ১০টার দিকে সলঙ্গা থানার আলোকদিয়া গ্রামে সোলায়মানের বাড়িতে অভিযান চালায়। এসময় তাদের কাছ থেকে বাচ্চাটি উদ্ধার এবং ৭ জনকে আটক করা হয়।

এরপর ঘটনাস্থলেই তাদেরকে গত মঙ্গলবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হাসপাতাল থেকে উল্লাপাড়ার উপজেলার দুর্গানগর ইউপির ভাদালিয়া গ্রামের চয়ন ইসলাম ও মঞ্জুয়ারা বেগমের ২৩ দিন বয়সী শিশু বাচ্চা চুরি বিষয়ে জেরা করা হয়।

এক পর্যায়ে চোরচক্রের সদস্যরা সেই বাচ্চাটিও চুরির বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে তাদের দেওয়া তথ্যমতে ওই বাড়ির একটি ঘরের ধানের ঢোলের ভেতর থেকে মৃত অবস্থায় আরেক বাচ্চা উদ্ধার করা হয়। তবে কেন, কি কারণে তারা চুরি করেছে সে বিষয়ে এখনো মুখ খোলেনি। তিনি আরও জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় মামলা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

 

এমন আরো সংবাদ

Back to top button