সেক্সটয় বিক্রি বেড়েছে, হচ্ছে হোমডেলিভারি

সাম্প্রতিককালে প্রতিবেশী ভারতের মতো বাংলাদেশেও সেক্সটয় বা যৌন খেলনার প্রতি আসক্তি বেড়ে গেছে। তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে বেশি বয়সী পুরুষ ও নারী এমন বিকৃত যৌনাচারে আসক্ত হয়ে পড়ছেন। তাদের বেশিরভাগই ভিনদেশি পর্নোগ্রাফিতে সেক্সটয়ের ব্যবহার দেখে প্রথমে আকৃষ্ট হয়ে এ পথে হাঁটতে শুরু করেছেন। ব্যক্তিজীবনে এমন অপচর্চায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে পারিবারিক বন্ধন।

এহেন পরিস্থিতিতে দেশে বেড়ে গেছে সেক্সটয়ের বিক্রি। অনলাইনসর্বস্ব কিছু প্রতিষ্ঠান এসব পণ্যের হোম ডেলিভারি দেওয়ায় সেক্সটয়ের চাহিদা হু হু করে বাড়ছে। নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও প্রচুর চাহিদা থাকায় চোরাপথে নানা রকম সেক্সটয়ের আমদানিও গেছে বেড়ে। পুলিশসহ একাধিক সূত্রেও পাওয়া গেছে এমন তথ্য।

জানা গেছে, ফেসবুকসহ সামাজিক বিভিন্ন মাধ্যমে যৌনশক্তি বৃদ্ধির নানা ওষুধের বিজ্ঞাপন দিয়ে এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের সঙ্গে আলাপচারিতা শুরু করেন। পরে তারা সম্ভাব্য ক্রেতাকে সেক্সটয় অফার করেন। ইচ্ছুক ক্রেতারা সম্মতি জানালে এসব পণ্য চলে যাচ্ছে তাদের দুয়ারে। নানা রকম সেক্সটয় বিক্রির জন্য সামাজিকমাধ্যমেও গড়ে উঠেছে অর্থলোভীদের বেশ কিছু সিন্ডিকেট। তারা অনলাইনে অর্ডার নেন। এর পর ‘হোম ডেলিভারি’ সার্ভিস দিয়ে থাকেন। আর অভ্যস্ত যারা, তারা বিভিন্ন অনলাইন শপিংয়ের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিজেরাই পণ্য ক্রয় ও হোম ডেলিভারির অর্ডার দিয়ে থাকেন।

ঢাকা কাস্টমস হাউসের কমিশনার মো. মোয়াজ্জেম হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, শুল্ক আইন অনুযায়ী সেক্সটয় আমদানি-নিষিদ্ধ পণ্য। শুধু তাই নয়, এসব পণ্যের বিকিকিনিও আইনানুযায়ী নিষিদ্ধ। আলীবাবাডটকমের সঙ্গে অনলাইনে ব্যবসা করেন এমন এক ব্যবসায়ী আমাদের সময়কে বলেন, বাংলাদেশে করোনাকালে সেক্সটয় অর্ডার দেওয়ার ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে গেছে। বেড়েছে অনলাইনে এ বিষয়ে সার্চিংও।

ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর- লকডাউনপরবর্তী জীবনে দেশটিতে সেক্সটয় কেনার প্রবণতা বেড়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ। পার্টনারের সঙ্গে মেলামেশায় করোনা সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় সেক্সটয়কে ‘নিরাপদ’ মনে করছেন অনেকেই। এ কারণেও গত এক বছরে অনেকে সেক্সটয় ব্যবহারে ঝুঁকে পড়েছেন। আবার অনেকে সঙ্গীকে ব্যতিক্রম যৌনসুখ দিতে এটি ব্যবহারে উৎসাহিত করেন। বলাবাহুল্য, তাদের অধিকাংশই মানসিকভাবে অসুস্থ; কেউ কেউ একটা সময়ে এসে তা বুঝতে পেরে চিকিৎসকের শরণাপন্নও হচ্ছেন।

সেক্সটয়ের বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাকৃতিক বিষয়ে কৃত্রিম বডির ব্যবহার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পর্নোগ্রাফি ও বিকৃত যৌনাচারে শরীরের মারাত্মক ক্ষতিও হয়ে যেতে পারে। এ জন্য পর্যাপ্ত যৌনশিক্ষাও প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

মোহাম্মদপুর জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার মুফতি মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, পুতুল (সেক্সডল প্রসঙ্গে) দূরের কথা, ইসলামে বৈবাহিক বন্ধনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার ছাড়া যে কারও সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ নিষেধ। যারা খেলনার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে তারা বিকৃত রুচির। এটি ইসলামে তো নয়ই, সমাজেও স্বীকৃত নয়।

জানা গেছে, সেক্সটয় রয়েছে মেশিনারি (ভাইব্রেটর) ও নন-মেশিনারি। স্বাভাবিক যৌন আচরণ যখন আটপৌরে মনে হয়, যখন আর উপভোগ্য মনে হয় না। আর তখনই মনে বাসা বাঁধে বিকৃত যৌনাচার। আর এহেন যৌনাচারের দিকে ধাবিত হওয়ার পথ দেখিয়ে দেয় পর্নোগ্রাফি।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ আমাদের সময়কে বলেন, সেক্সটয় বা কৃত্রিম যে কোনো বস্তুর সঙ্গে যৌনাচার হলো বিকৃত মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। এটি মাদকদ্রব্য সেবনের মতোই ভয়াবহ এক আসক্তি। এতে করে পারিবারিক বন্ধন নষ্ট হয়ে যায়। কারণ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসার যে বন্ধন গড়ে ওঠে, সেক্সটয় ব্যবহার করলে তা হ্রাস পেতে থাকে। তিনি যোগ করেন, সেক্সটয়ের সঙ্গে পর্নোগ্রাফির প্রতি আসক্তির একটা সাদৃশ্য রয়েছে। এ ধরনের চর্চায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও থেকে যায়। সেক্সটয় আমদানি বন্ধ করতে কঠোরভাবে আইনের প্রয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি পারিবারিক সুদৃঢ় বন্ধন, সুষ্ঠু বিনোদনচর্চার প্রতি অধিকতর গুরুত্ব দিতে হবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম বিভাগের ডিআইজি মনিরুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, বিকৃত যৌনাচার বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে কেউ যদি অভিযোগ করেন তা হলে আইন অনুযায়ী পুলিশের ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

 

এমন আরো সংবাদ

Back to top button