কেন মমতার দলে ভাঙন থামছে না?

তৃণমূল সংসদ হিসেবে রাজ্যসভায় বাজেট বক্তব্য দেওয়ার সময় দল থেকে ইস্তফা দিয়েছেন মমতা ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন রেলমন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদী, যা ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা।

শুভেন্দু, রাজীবের পর তৃণমূলের গ্রহণযোগ্য ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের বিচারে দীনেশ ত্রিবেদী অন্যতম। এর আগে শুভেন্দু-রাজীবও তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।

যদিও দীনেশ ত্রিবেদী শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত বিজেপিতে যাচ্ছেন কিনা সেটা নিশ্চিত করেননি। তবে রাজ্যসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তৃণমূলের বিরুদ্ধে যেভাবে সমালোচনা করেছেন বা যেভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করেছেন-তাতে এটা নিশ্চিত যে দীনেশ ত্রিবেদীও বিজেপিতে নাম লেখাতে চলেছেন।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। নির্বাচন কমিশন চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে কিংবা মার্চের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনের দিন তারিখ প্রকাশ করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজ্যজুড়ে দুই মাস আগে থেকেই নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছে তৃণমূল-বিজেপি-বামফ্রন্ট-কংগ্রেস। রাজ্যে এবার ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে মিম ও রাম বিলাশ পাসোয়ানের লোকজন শক্তি দলও।

তবে প্রধান দুই শক্তি হিসেবে গত তিন বছর ধরেই মাঠে রয়েছে তৃণমূল ও বিজেপি। ২৯৪ আসনে মূলত লড়াই হবে এই দুই শক্তির মধ্যেই। তাই স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যবাসীর নজর বিজেপি-তৃণমূলের দিকে। প্রধান রাজনৈতিক দুটি শক্তিও পরস্পরের শক্তি কমাতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। এক্ষেত্রে দল ভাঙানো একটি বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে বিজেপি। অন্যদিকে বিজেপিকে বহিরাগত শক্তি হিসেবে রাজ্যের মানুষের সামনে গত কয়েক মাস ধরে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছে তৃণমূল। তৃণমূলের হাতে আরো শক্তি তার রাজ্যে সরকারে রয়েছে। তাই সরকারি প্রকল্প করে মানুষকে শাসক দলের দিকে টানার চেষ্টা করছে মমতার দল।

তবে বিজেপিও কম নয়, তারাও কেন্দ্রের শাসক দল। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা রয়েছে তাদের। তাদের হাতে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার মতো শক্তি। এ ছাড়া সর্বভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর ওপর বিজেপির প্রভাব রয়েছে; তেমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতেও বিজেপির শক্ত আইটি সেল কাজ করছে দীর্ঘ সময় ধরে। বিজেপিও বাংলার রাজনৈতিক মাটি কামড়ে ধরে রেখেছে গত কয়েক বছর।

তবে ভোটের মুখে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া শীর্ষ নেতৃত্ব সদ্যত্যাগী দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে যেভাবে কথা বলছেন- তাতে রাজ্যের মানুষের কাছে তৃণমূল কিংবা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। আর যারাই তৃণমূল ত্যাগ করছেন; তাদের সবার মুখেই একই সুর। তৃণমূলে থাকা যাচ্ছে না। এখন ব্যক্তিগত দলে পরিণত হয়েছে তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে না হলেও তার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সবার অভিযোগ।

এমন আরো সংবাদ

Back to top button