বাস থেকে ছিটকে পড়ে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ নিহত

বরগুনায় বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসকে পেছন থেকে আর একটি বাস ধাক্কা দিলে ইঞ্জিনবক্সে বসে থাকা এক অন্তঃসত্ত্বা নারী সড়কে ছিটকে পড়ে নিহত হয়েছেন। এসময় দুই শিশুসহ আরও ৪ জন যাত্রী আহত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বরগুনার আমতলী-পটুয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের শাখারিয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। অন্তঃসত্ত্বা ওই নারীর নাম রেহেনা বেগম (২৭)। তিনি উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের কালীবাড়ী গ্রামের আফজাল বেপারীর স্ত্রী।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার সকালে আমতলী থেকে পটুয়াখালীর উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া বাস মেহেলী পরিবহন সকাল ১০টায় শাখারিয়া বাসস্ট্যান্ডে পৌছে যাত্রী ওঠা নামানোর জন্য দাঁড়ায়। এসময় পার্শ্ববর্তী গলাচিপা থেকে ছেড়ে আসা অপর আর একটি বাস নিশাত পরিবহন ঘটনাস্থলে এসে থামানো গাড়িটিকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মেহেলী পরিবহনের ইঞ্জিনবক্সে বসে থাকা ওই অন্তঃসত্ত্বা নারী তার শিশু কন্যা রিয়া মনিকে নিয়ে বাস থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে যান। ছিটকে পড়ে গেলে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। এসময় আহত হয়েছেন নিহতের শিশু কন্যা রিয়া মনি (৩), অন্য যাত্রীদের মধ্যে নূরজাহান বেগম (৫২), পিয়ারা বেগম (৫০) ও তার নাতি শিশু খাদিজা (৫)। এদের মধ্যে শিশু রিয়া মনির অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেন এবং আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় আমতলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নিহত গৃহবধূর স্বামী আফজাল বেপারী বলেন, ‘ডাক্তার দেখানোর জন্য পটুয়াখালী যাওয়ার জন্য আজ মঙ্গলবার সকালে আমি আমার স্ত্রী ও কণ্যাকে গাড়িতে উঠিয়ে দিয়েছি। এখন আমি আমার স্ত্রীর লাশ পেলাম। আমার আদরের একমাত্র কন্যাও গুরুত্ব অসুস্থ। ঘাতক বাস আমার সব শেষ করে দিলো। আমি এর বিচার চাই।’

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহআলম হাওলাদার বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছি। আহত দুই শিশুসহ অন্যান্যদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। ঘাতক যাত্রীবাহী বাসটির চালক হেলপার বাসটি নিয়ে পালিয়ে গেছে।’ তাদের আটক করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

 

এমন আরো সংবাদ

Back to top button